kalerkantho


ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ

সাহসী মানবী পুরস্কার পেল শিশুছাত্রী

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর   

২৫ মে, ২০১৭ ০০:০০



চাঁদপুরে নিজেকে বাঁচিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এক শিশুছাত্রী পেল ‘সাহসী মানবী পুরস্কার’। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল তাঁর কার্যালয়ে পুরস্কার হিসেবে তার হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন। একই সঙ্গে তার পড়াশোনার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব পালনের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ছোট্ট একটি শিশু আপন বুদ্ধিগুণে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই বিরল। তাই বিষয়টি জানার পর তার পড়াশোনাসহ নিরাপত্তার দায়িত্ব জেলা প্রশাসন নিয়েছে। একই জন্য তিনি পুলিশ বিভাগসহ সমাজের বিত্তবানদের শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোহাম্মদ আব্দুল হাই, মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শিশুটির মা-বাবা।

জানা যায়, বিদ্যালয় থেকে একাই বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে পৌঁছালে তার পথ আগলে দাঁড়ায় এক বখাটে। বাঁচার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না শিকারে পরিণত হওয়া শিশুটি। অবশেষে মাথায় বুদ্ধি এলো চিৎকার দেবে। যেই কথা সেই কাজ, আর এমনই একটি চিৎকারে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেল আট বছরের শিশুছাত্রী।

শিশুটির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাসেত খিলজী বলেন, ‘শিশুটি একটু বুদ্ধিমতী। তা ছাড়া পড়াশোনায়ও সে বেশ ভালো। তাই নিজগুণে বেঁচে গেছে সে।’

মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, ‘শিশুটি শুধু নিজের একা নয়, সমগ্র শিশুর সম্ভ্রম রক্ষা করেছে।’

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল হাই কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সত্যি শিশুটি অসাধারণ এবং মেধাবী। একটি নরপশুর হাত থেকে কিভাবে নিজকে রক্ষা করতে হয় তাই জানান দিয়েছে সে।’

এদিকে চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওচমান গনি পাটোয়ারী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।


মন্তব্য