kalerkantho


স্যাপির প্রতিবেদন

দারিদ্র্য কমলেও বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০



সার্বিক বিবেচনায় দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে; অথচ নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। ২০১০ সালে নারী নির্যাতনের ৫৫৯টি ঘটনা ঘটলেও ২০১৫ সালে ৭৮৯টি ঘটনা ঘটে। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের সফলতা ম্লান হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় দারিদ্র্যের অবস্থা নিয়ে সাউথ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরেডিকেশনের (স্যাপি) এক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। স্যাপির সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) এবং বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর। আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিমউদ্দিন খান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার, আইইডির নির্বাহী পরিচালক নুমান আহম্মেদ খান, ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মুশতাক আলী, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, নারী নেত্রী প্রতিমা পাল মজুমদার, বিএনপিএসের শাহনাজ সুমী, শরিফুজ্জামান শরিফ প্রমুখ।

ড. মাহফুজ কবীর বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশেও এ সহিংসতা বেড়েছে। অথচ দারিদ্র্যের সঙ্গে সহিংসতা কমার কথা ছিল। তিনি বলেন, ধনীদের হাতে সম্পদ বাড়ছে। দৃশ্যমান বস্তির সংখ্যা কমলেও বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। সার্বিক ক্ষেত্রে অসমতা বাড়ছে।

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘আমাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। ই-গভর্নেন্স এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারকে সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘রিপোর্টে আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষকরাও সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। শিক্ষার এ দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

ড. তানজিমউদ্দিন খান বলেন, ‘এ রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংখ্যাগত উন্নয়ন বাড়লেও গুণগত উন্নয়ন বাড়ছে না। তাই উন্নয়নের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। জনজীবনে সংকট বাড়ছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে সুষম উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোকেয়া কবীর বলেন, সরকার নারী নির্যাতন বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিলেও রিপোর্টে তার প্রতিফলন নেই। তবে গার্মেন্ট খাতে সুফল পাওয়া গেছে। এ খাতে নির্যাতন ও হয়রানির সংখ্যা কমেছে। সহিংসতা কমাতে নারীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাপার আব্দুল মতিন বলেন, বনের গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে। মন্ত্রী-এমপিরা সেখান থেকে মাসহারা নিচ্ছে। কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে। পানিতে দূষণ বাড়ছে। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। আর তাই দারিদ্র্য কমলেও জনজীবনে সংকট বাড়ছে।



মন্তব্য