kalerkantho


গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

আতাউর রহমান কাবুল   

২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০



গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

সারা দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, এই তাপমাত্রা বাড়ার হার আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক, পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, বসন্ত বা পক্স, চর্মরোগ বা গায়ে ফুস্কুড়ি প্রভৃতিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ ক্ষেত্রে গরমের প্রভাব থেকে বাঁচতে বিশেষ সতর্ক থাকার পাশাপাশি খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও নানা পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হিট স্ট্রোক : প্রচণ্ড দাবদাহে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয় হিট স্ট্রোক তার অন্যতম। এটি একটি জরুরি মেডিক্যাল অবস্থা। এতে দ্রুত ও সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে মৃত্যুও হতে পারে। 

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই তাপমাত্রা যদি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যায় তখন মারাত্মক হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। সাধারণত চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বৃদ্ধরা; যাদের গরম সহনীয় ক্ষমতা কম, যারা  কিডনি, হার্ট, লিভার, ডায়াবেটিকের রোগী, যথেষ্ট পানি পান করে না এমন লোকজন অথবা যাদের শরীর খুব দুর্বল, ক্রীড়াবিদ, ব্যায়ামবিদ এবং প্রচণ্ড রোদে কাজ করেন এমন লোকেরা, যাদের ওজন বেশি বা অনেক কম তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

হিট স্ট্রোকের সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা পেতে করণীয় সম্পর্কে অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির তাপমাত্রা কমাতে ঠাণ্ডা বা বরফ পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে, পা উঁচু করে দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে এনে বা ফ্যান ছেড়ে শীতল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। থার্মোমিটার দিয়ে বারবার তাপমাত্রা মাপতে হবে এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত ঠাণ্ডা দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে। তবে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিতে হবে।

পেটের পীড়া: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় শরবত ব্যবসায়ীরা রাস্তাঘাটে লেবুসহ নানা জিনিস দিয়ে শরবত বানিয়ে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে দ্য লিভার সেন্টারের পরিচালক, বিশিষ্ট লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মবিন খান বলেন, গরমে স্বস্তি দেবে—এ কথা বলে রাস্তাঘাটে খোলা যেসব শরবত বিক্রি হচ্ছে তার স্বাস্থ্যমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসবে ব্যবহৃত পানি ফুটানো হয় না বলে তাতে থাকা জীবাণুর কারণে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। সাধারণত দিনে তিনবার বা তার বেশি পাতলা পায়খানা হলে তা ডায়রিয়া বলে ধরা হয়। আর কারো ডায়রিয়া হলে বারবার সালাইন, ডাবের পানি খাওয়াতে হবে।

তিনি বলেন, ফলের এই মৌসুমে ভেজাল, নকল ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত ফলমুল বাজারে থাকে। এসব থেকেও সাবধান হতে হবে। কেননা এগুলো খেলে পেটের পীড়া, লিভারের ক্ষতি, ব্রেইনে ইফেক্ট, ডায়রিয়া, হার্টে রক্তসঞ্চালনে সমস্যা, কিডনির ক্ষতি, স্কিন রোগ এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।

শিশুদের জন্য বিশেষ সাবধানতা : এই গরমে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকটি বিশেষভাবে ভাবতে হবে। শিশুদের জন্য বাইরের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে ঘরে তৈরি টাটকা খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, এই গরমে নবজাতক ও ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয়বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। যদি কম হয়, সে ক্ষেত্রে পানি বা তরল খাবার বাড়িয়ে দিতে হবে। গায়ে ‎র‌্যাশ ও ঘামাচি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষ ওষুধের দরকার নেই। ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিতে হবে এবং ঠাণ্ডা বা নিরাপদ পরিবেশে শিশুকে রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসল ও দিনে দুই থেকে তিনবার শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। নবজাতকদের জন্য বুকের দুধ বারবার দিতে হবে। নরম ও পাতলা কাপড় পরাতে হবে।  

খাবারদাবার : গরমে খাবারদাবারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। এই সময় কী খাওয়া উচিত—এ বিষয়ে অ্যাপোলো হাসপাতাল ঢাকার প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়। এতে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হতে পারে। এ জন্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে বা দিনে কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটারের মতো বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। ত্বকের যত্ন ও শরীরকে প্রাণবন্ত রাখতে কলা ও দই-চিঁড়া, দইয়ের লাচ্ছির সঙ্গে সামান্য জিরা ও লবণ বেশ উপকার দেয়। বিভিন্ন রকমের সবজির মধ্যে ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল, করলা, ডাঁটা, চালকুমড়া, পেঁপে সহজে হজম হয়; যা শরীরের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে কোলস্টেরলের মাত্রা কমায়।

তবে রেড মিট, ভাজাপোড়া, খিচুড়ি ও পোলাও, তৈলাক্ত ও মসলাদার খাবার, চা-কফি, কোমল পানীয় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী।



মন্তব্য