kalerkantho


শুল্কমুক্ত গাড়ি আটক

মুসা বিন শমসের জবাব দিতে সময় পেয়েছেন ১৪ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



রহস্যময় ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের গতকাল বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে সশরীরে হাজির হননি। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ দিনের সময় দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ব্যবহার করায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। নতুন করে ধার্য সময়ের মধ্যে হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত বুধবার সকালে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে ম্যানেজারের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে দেখা করতে তিন মাস সময়ে চেয়েছিলেন মুসা বিন শমসের। চিঠিতে তিনি নিজেকে ‘অসুস্থ’ বলে দাবি করেন।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ২১ মার্চ গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িটি ভোলা বিআরটিএ থেকে ভুয়া বিল অব অ্যান্ট্রি দিয়ে ফারুকুজ্জামান নামে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়। গাড়ির চেসিস পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি কার্নেট ডি প্যাসেজের মাধ্যমে আনা হলেও শর্ত মোতাবেক পুনঃ রপ্তানি হয়নি। গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার এবং জালিয়াতি করে অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয় এবং মুসা নিজেই গাড়িটি ব্যবহার করতেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ মার্চ মুসাকে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এই প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, মুসার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তাঁকে দেখা করতেই হবে। বুধবার ম্যানেজারের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে নিজেকে ‘শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ’ উল্লেখ করে তদন্ত দলের কাছে জবানবন্দি দিতে সময় প্রার্থনা করেন তিনি। চিঠিতে মুসা বিন শমসের দাবি করেন, তাঁর মুখের এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। বাকশক্তি মারাত্মকভাবে লোপ পেয়েছে। ভালোভাবে কথা বলতে পারেন না। এ কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ পর্যদুস্ত। ডাক্তার তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিশ্রাম নিতে বলেছেন। যেকোনো ধরনের অনিয়মে তাঁর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সশরীরে বক্তব্য দিতে বর্তমানে অপারগ তিনি। এ চিঠির সঙ্গে তিনি ডাক্তারের সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছেন।



মন্তব্য