kalerkantho


খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ

সংকটের মধ্যেও আছে সাফল্য

কৌশিক দে, খুলনা   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



মা ও শিশুমৃত্যু, টিকা প্রদান, জন্মহার নিয়ন্ত্রণে সাফল্য থাকলেও জনবল সংকটসহ নানা কারণে হিমশিম খাচ্ছে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব সংকট দূর করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে এ সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য, খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলায় ২৩০টির বেশি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি উপজেলায় মোট ১৮২ চিকিৎসক পদের মধ্যে ১০১টি শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে গাইনি, মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদও বেশির ভাগ ফাঁকা।

দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, রূপসা,  কয়রা ও তেরখাদায় চক্ষু চিকিৎসকের পদ নেই। দাকোপ ও ফুলতলা উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরেই ফাঁকা পড়ে আছে। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর জুনিয়র কনসালট্যান্টের সার্জারি বিভাগে ৯ পদের ছয়টি শূন্য, গাইনিতে ৯টির মধ্যে তিনটি, মেডিসিনে ৯টির মধ্যে চারটি, অ্যানেসথেশিয়ায় ৯টির মধ্যে পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। শিশু বিভাগে ৯টির মধ্যে কোনো পদ শূন্য নেই। তবে ইএনটিতে দুটির মধ্যে একটি, অর্থোপেডিকসে দুটির মধ্যে একটি, চক্ষু বিভাগে দুটির মধ্যে দুটি পদই ফাঁকা রয়েছে।

অবশ্য সংকট থাকার পরও পরিসংখ্যান ব্যুরোর খুলনা দপ্তরের হিসাব বলছে, ২০০৮ সালে জেলায় মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ০.৩২ শতাংশ।

২০১৬ সালে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ০.১৭ শতাংশে। শিশুমৃত্যুর হারও কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৩ শতাংশে। বেড়েছে শিশুদের টিকা দেওয়ার হারও। ২০০৮ সালে যে হার ছিল ৭৮ শতাংশ, এখন তা ৯৩ শতাংশ। খুলনায় জন্মহার কমেছে। জেলায় বর্তমান জন্মহার ০.৯২ শতাংশ, জাতীয় পর্যায়ে এ হার ২.৩৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগের সাফল্য ও বর্তমান অবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার টেকসই উন্নয়ন করতে হলে কেবল পরিসংখ্যানের অগ্রগতি দেখিয়ে লাভ হবে না। খুলনার ২৩০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবার মান বাড়াতে হবে। না হলে তৃণমূলের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ’

খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনায় জেলার এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে সরকারি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসকসহ সব পদে লোকবল দরকার। ’


মন্তব্য