kalerkantho


রায়পুরায় আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরেকজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়িতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত আরেকজন মারা গেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মাসুদ মিয়া (২৬) নামের ওই যুবক মারা যান।

এ নিয়ে ওই সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।

গতকাল মারা যাওয়া মাসুদ মিয়া বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বীরকান্দী গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবরে বাঁশগাড়িতে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। গতকালও দুই পক্ষ টেঁটা ও অস্ত্র নিয়ে ফের হামলা-পাল্টাহামলার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে।

বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সমর্থকদের মধ্যে গত বুধবার দিনভর সংঘর্ষ চলে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই দিনই শারফিন মিয়া (২০) নামের এক ব্যক্তি মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত বছর হওয়া ইউপি নির্বাচনের সময় বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকার। কিন্তু নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর পছন্দের প্রার্থী সিরাজুল হক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই ব্যক্তি নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাহেদ সরকারের কয়েক শ সমর্থক এলাকাছাড়া হতে বাধ্য হয়। কয়েক দিন ধরে সাহেদ সরকারের সমর্থকরা এলাকায় ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু সিরাজুল হকের পক্ষ বাধা দেয়। এরই জের ধরে বুধবার তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যাওয়া মাসুদ মিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সমর্থক ছিলেন। তাঁর লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। তিনি জানান, উভয় পক্ষ আবারও হামলা ও সংঘর্ষের চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।


মন্তব্য