kalerkantho


তবু ঠেকানো গেল না বাল্যবিয়ে

নাটোর প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা ছিল। উদ্যোগ ছিল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরও।

কিন্তু এত সবের পরও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ঠেকানো গেল না বাল্যবিয়ে। প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতেই বাল্যবিয়ের শিকার হতে হলো দশম শ্রেণির ছাত্রী রিমা খাতুন (১৫)। গোপনে বিয়ে পড়ালেন মাদরাসার পিয়ন। গতকাল বুধবার ভোরে নাটোরের লালপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।

জানা গেছে, নাটোরের লালপুরের কদিমচিলান ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের ইন্তা শেখের মেয়ে রিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার মোজাহার মোল্লার ছেলে মহিবুল মোল্লার (১৮) বিয়ের আয়োজন করে উভয়ের পরিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই দিন আগেই বিষয়টি

এলাকায় চাউর হয়ে যায়। এ বাল্যবিয়ে ঠেকাতে স্থানীয় সচেতন এক ব্যক্তি বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে মোবাইল ফোনে জানান। ইউএনও নজরুল ইসলাম তাত্ক্ষণিক কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টারকে এই বাল্যবিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান সেলিম রেজা প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেননি।

এই অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরপক্ষ এসে হাজির হয় কনের বাড়িতে। বিষয়টি ফের ইউএনওকে মোবাইলে অবহিত করলে তিনি চেয়ারম্যানকে তাত্ক্ষণিক বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নিলেও তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাত পার করে গতকাল ভোর ৪টার দিকে পাশের পুকুরপাড়া গ্রামে ছেলের ফুপুর বাড়িতে চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল হোসাইন ও বর-কনের পরিবারের উপস্থিতিতে রিমা ও মহিবুলের বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ে পড়ান পাশের ধানাইদহ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার পিয়ন সিদ্দিকুর রহমান।

বাল্যবিয়ের শিকার রিমা চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অথচ ওরই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক আজমল হোসাইন মাস্টারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।  

ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাস্টার বলেন, ‘বিয়ে বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে গোপনে বিয়ে হলে কি করার আছে!’।


মন্তব্য