kalerkantho


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হল

সিট দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সিট দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রবিবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এতে সুমন নামের এক শিক্ষার্থী আহত হন।

জানা যায়, ছাত্রলীগের নতুন হল কমিটি হওয়ার পর নিজ নিজ গ্রুপের ছাত্র ওঠানোর জন্য ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সমঝোতার ভিত্তিতে কক্ষগুলো ভাগাভাগি করে নেয়। এতে ৫২০ নম্বর কক্ষটি হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেনের ভাগে পড়ে। ওই কক্ষে একটি সিট ফাঁকা হলে আরিফ নিজের কর্মীকে তুলে দেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান বিষয়টি মানতে না পেরে সেখানে নিজের কর্মী দিতে চান। একপর্যায়ে রাতে ওই সিটে আগে থেকেই একজনকে তুলে দেওয়া হয়েছে—জানতে পেরে শাহেদের গ্রুপের কয়েকজন তাঁকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ওই কক্ষে আগে থেকে থাকা সুমনের সঙ্গে কথা-কথাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে সুমনকে মারধর করে এবং তাঁর মোবাইল ফোনসেট ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা রড, হকিস্টিক, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের ভেতর মহড়া দেয় ও হলের তৃতীয় তলায় থাকা পানির ফিল্টারসহ বেশ কিছু কক্ষের জানালা ভাঙচুর করে।

এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

সুমনের ওপর হামলায় অংশ নেয় শাহেদের অনুসারী আরবি চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু বকর ও মনির হোসেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের আল আমিন হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কৃতম রহমান ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাইফুল ইসলাম।

খবর পেয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহমত উল্লাহ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় আবাসিক শিক্ষকরা পুলিশের সহযোগিতায় হলের ৫২০, ৪২১, ৩১৭, ৩১৮, ৩২১, ২০৮, ২২২, ২২৩, ২৩০ ও ২৩২ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালান। তল্লাশিতে রড, রামদাসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র ও চার বহিরাগতকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি সিট নিয়ে কোনো ঝামেলায় যেতে চাইনি। আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে রুম ভাগ করেছিলাম। কিন্তু রবিবার ৫২০ নম্বর রুমে আমার একটি সিট ফাঁকা হলে সেখানে আমি একজনকে পাঠাই। তখন তারাও পাঠাতে চায়। ওঠাতে না পেরে তারা ওই রুমে থাকা সুমন নামের এক ছাত্রকে মারধর করে। ’

সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার সময় বাইরে ছিলাম। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কোনো মারামারি হয়নি। সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে। পরে দুই গ্রুপের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ’

হল প্রাধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি হলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হলে তল্লাশি চালিয়ে চারজন বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।


মন্তব্য