kalerkantho


আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ

এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে মাইক বাজিয়ে অধ্যক্ষ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাবলিক পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকে। অর্থাৎ ২০০ গজের মধ্যে সভা-সমাবেশ করা তো দূরের কথা, কোনো ধরনের জমায়েতও নিষিদ্ধ।

কিন্তু যাঁরা নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, তাঁরাই পরীক্ষাকেন্দ্রের ১৪৪ ধারা ভাঙলেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর আজিমপুর গভর্মেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সকাল থেকে একদিকে চলেছে এসএসসি পরীক্ষা, অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের আয়োজনে সারা দেশ থেকে আসা অধ্যক্ষদের নিয়ে স্কুল অডিটরিয়ামে চলেছে সরকারি কলেজ অধ্যক্ষদের সম্মেলন। ফলে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

গতকাল সকাল ১০টায় আাাজিমপুর গভর্মেন্ট গার্লস স্কুল কেন্দ্রে এসএসসির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ১টায়। কিন্তু অধ্যক্ষ সম্মেলন শুরু হয় সকাল পৌনে ১০টায়। ওই কেন্দ্রে একই সময়ে পরীক্ষার্থী ও সম্মেলনে আসা অতিথিরা প্রবেশ করেন। এ সময় অধ্যক্ষদের বহন করা গাড়িও কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এতে করে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় কেন্দ্রে আসা পরীক্ষার্থীদের।

পরীক্ষাকেন্দ্রে সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের কোনো প্রকার অসুবিধা না করেই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষদের গাড়িগুলো পরীক্ষা শুরুর আগেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেছে। অন্য কোথাও জায়গা না পাওয়ায় এখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ’

তবে পরীক্ষা চলাকালে দুপুর ১টার আগে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর পরই অধ্যক্ষদের কেউ কেউ মিলনায়তন থেকে বের হয়ে বাইরে যাচ্ছেন, আবার আসছেন। পরীক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলে, ‘সাউন্ড বক্সের শব্দেও সমস্যা হয়েছে। আমরা শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেছি; কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। ’

গতকালের দিনব্যাপী অধ্যক্ষ সম্মেলনে ৩২৯টি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘মানসম্পন্ন শিক্ষা’। সারা দেশ থেকে আসা অধ্যক্ষরা তাঁদের ৫১ ধরনের সমস্যা তুলে ধরেন। শিক্ষক সংকটই সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে জানান অধ্যক্ষরা।  

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্মেলনে আসেন বিকেল ৩টায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কলেজগুলো উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কলেজগুলোতে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। কলেজগুলোতে শিক্ষার উন্নত পরিবেশ তৈরিতে অধ্যক্ষগণকে টিম লিডার হিসেবে কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে। ’

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর প্রমুখ।


মন্তব্য