kalerkantho


নিয়ম মানতে গিয়ে বিপাকে ৬০ হাজার হজযাত্রী

মোশতাক আহমদ   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাক-নিবন্ধন করেও হজে যেতে পারছেন না প্রায় ৬০ হাজার হজযাত্রী। সরকারের তালিকাভুক্ত ৫৩৭টি হজ এজেন্সির মাধ্যমে তাঁরা ইতিমধ্যে সরকারের অ্যাকাউন্টে ১৫৪ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকাও জমা দিয়েছেন।

কিন্তু প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতার কারণে তাঁরা এবার হজব্রত পালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করা হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে জানান, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারলে সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত এজেন্সিগুলোর বক্তব্য, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আইটি শাখার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে। একই দিন অনলাইনে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, কোনো হজ এজেন্সির যাত্রীসংখ্যা ১৫০ জনের কম হলে তারা ডাটা এন্ট্রি করতে পারবে না। এ অবস্থায় ওই দিন পর্যন্ত যাদের যাত্রীসংখ্যা ১২০ বা তার কম ছিল তারা ১৫০ জনের জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ১৯ তারিখ রাতে দেড় শতাধিক এজেন্সি মন্ত্রণালয় বা বেসরকারি হজ এজেন্সিকে না জানিয়ে ২৮৬টি ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দিয়ে সাত হাজারের মতো হজযাত্রীর ডাটা সরকারি অনলাইনে এন্ট্রি করে নেয়। পরদিন এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে মন্ত্রণালয় থেকে ওই সব এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট আইটি প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশনকে শোকজ করা হয়।

এজেন্সিগুলো শোকজের জবাব দেওয়ার পর তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের নিবন্ধন করা সেই সাত হাজার ডাটা এন্ট্রি আর বাতিল করা হয়নি।

এজেন্সিগুলো জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয় যে সীমিত সময়ের জন্য ১৫০ জনের কম হলেও হজযাত্রী নিবন্ধন করতে পারবে এজেন্সিগুলো। কিন্তু ততক্ষণে এজেন্সিগুলোর অনেকেরই অফিসের ডাটা সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। কারণ অনেকেরই ধারণা ছিল যে বিকেল ৫টার পর আর কোনো কার্যক্রম হয়তো চলবে না। তা ছাড়া এ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কেও তারা আগে থেকে কিছু জানত না। এ ছাড়া একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হলে তাঁর নামে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা আগেভাগে জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৬০ হাজার হজযাত্রীর নিবন্ধনের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক ছাড়পত্র সংগ্রহ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৩ ফেব্রুয়ারি লেগে যায়। গত বছরের নিবন্ধিত ৩৮ হাজার এবং এই ৬০ হাজার যাত্রীসহ মোট প্রাক-নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৭২ হাজার। এর বাইরে সরকারি পর্যায়ের আরো ১০ হাজার যাত্রী রয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের জন্য কোটা নির্ধারণ করা আছে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৫২ জন। এ অবস্থায় ২২ ফেব্রুয়ারির পর নিবন্ধিত এই ৬০ হাজার হজযাত্রী নির্ধারিত কোটার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর অভিযোগ, মন্ত্রণালয় বিশেষত বিজনেস অটোমেশন থেকে প্রচার করা বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনার কারণে তারা এসব হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন আগেভাগে করতে পারেনি। এর দায় অবশ্যই মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানো হলে ধর্মমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের আশ্বস্ত করেছিলেন, যে বা যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এজেন্সিগুলোর পক্ষে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সংবাদ সম্মেলন ডেকেও তা বাতিল করে। কিন্তু পরে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়ে দেন যে তাদের কিছু করার নেই। যেভাবে নিবন্ধন হয়ে আছে সেভাবেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা এবার হজব্রত পালন করবেন।

হাব সভাপতি ইব্রাহীম বাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে ১৫০ জনের কম হলে নিবন্ধন করা যাবে না—এমন বিজ্ঞপ্তির কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বিজনেস অটোমেশনের সিইও বজলুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘নিয়ম মানতে গিয়ে কেউ প্রাক-নিবন্ধনের পরও হজে যেতে না পারলে বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। ’


মন্তব্য