kalerkantho


মোশতাকের বাড়ি উচ্ছেদের দাবিতে অবরোধ বিক্ষোভ

সাংবাদিকসহ আহত ৫

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী খন্দকার মোশতাকের বাড়ি দাউদকান্দি থেকে উচ্ছেদের দাবিতে গতকাল রবিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি জানানো হয়।

মোশতাকের বাড়ি ঘেরাও করার চেষ্টাকালে পুলিশ তাতে বাধা দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর সরকারি কলেজ, শহীদনগর ও হাসানপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছে। মোশতাকের বাড়ি সরানোর দাবিতে মহাসড়কে হাই বেঞ্চ দিয়ে অবরোধ করে তারা। এ সময় উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর পুলিশের একটি দল শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিক্ষুব্ধ শিক্ষর্থীরা রাস্তার ওপর শুয়ে পড়ে তাদের জোরালো দাবি জানায়। পরে দাউদকান্দি উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে খন্দকার মোশতাকের বাড়ি দশপাড়ায় যেতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

মোশতাকের বাড়ির সামনে বালিবোঝাই ট্রাক ফেলে আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়া হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি মোশতাকের বাড়ি অভিমুখে যেতে চাইলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ফলে হুড়াহুড়ি করে দৌড়াতে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়।

পরে সমাবেশে বক্তরা বলেন, ‘কুমিল্লা’ নাম বাদ দিয়ে ‘ময়নামতী’ নামটি বিভাগ হিসেবে ঘোষণার একমাত্র কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘কুমিল্লা’ নামটি পছন্দ করেন না। তার কারণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দীন ঠাকুর ও কর্নেল রশীদের বাড়ি বৃহত্তর কুমিল্লায়। এই তিন খুনির বাড়ি কুমিল্লা থেকে উচ্ছেদ এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি জানাচ্ছি। এই খুনিদের অপকর্মের দায় কুমিল্লার সাধারণ মানুষ নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।


মন্তব্য