kalerkantho


সোনারগাঁয় এসআইসহ ৯ জনকে গণপিটুনি, ভাঙচুর

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যসহ ৯ জনকে গণপিটুনি দিয়ে চার ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

গতকাল রবিবার রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মীরেরবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাত ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা যায়নি। এলাকার লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং এ সময় পুলিশের ব্যবহূত অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফ দুজন কনস্টেবলসহ সাদা পোশাকে গতকাল সন্ধ্যায় মীরেরবাগ এলাকায় কাউছার টেক্সটাইল নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় কারবন্দি সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা হিমেলের স্ত্রী রুমা আক্তারকে ওই শিল্প-কারখানার ভেতরে পাঠিয়ে শিল্পমালিক বিল্লাল হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করেন তাঁরা। পরে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, মিঠু মিয়া, জয়নালকে সঙ্গে নিয়ে ওই কারখানায় জোর করে ঢোকেন। একপর্যায়ে কারখানা মালিক বিল্লালকে আটক করে মারধর করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা।

এলাকাবাসী জানায়, এ অবস্থায় বিল্লাল হোসেন ডাকাত ডাকাত বলে চিত্কার শুরু করেন।

এলাকাবাসী শুনতে পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকের ঘোষণায় ডাকাত পড়ার কথা প্রচার করে। তখন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ছুটে আসে। তারা চার পুলিশ সদস্যসহ ৯ জনকে পিটুনি দিয়ে আটকে রাখে।

পরে পুলিশ গিয়ে সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, মিঠু মিয়া, জয়নাল ও রুমাকে গ্রেপ্তার করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলন করে আসছিলেন বিল্লাল। সম্প্রতি স্থানীয় মাদক কারবারি সন্ত্রাসী হিমেল মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় তার স্ত্রী রুমা ও সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়। তারাই অসাধু পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় বিল্লালকে মারধর করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

আহত বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এসআই আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফ টাকা না দিলে আমাকে ইয়াবা ও নারী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। ’

তবে গ্রেপ্তারকৃত রুমা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন কিছুদিন ধরে তাঁকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন এবং তাঁর বাড়িতে আসতে বলেন। গতকাল সন্ধ্যায় ফোন পেয়ে তাঁর বাড়িতে আসার এক ঘণ্টা পর পুলিশ পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক তাঁর কারখানার প্রধান ফটক টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর এলাকার লোকজন এসে তাঁদের ঘিরে ফেলে এবং মারধর করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি রুমাকে কাপড় নেওয়ার জন্য আসতে বললে সে আমার বাসায় আসে। ’

পুলিশ সদস্য অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) সাজিদুর রহমান ও সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) এস এম ওবায়েদুল হক রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশের দুই এসআই অভিযানে আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’


মন্তব্য