kalerkantho


সুরক্ষিত এলাকায় ঢুকে হামলা

কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সুরক্ষিত এলাকায় ঢুকে জেটি কাস্টমসের অফিস ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। হয়নি তদন্ত কমিটিও। নজিরবিহীন এ ঘটনায় সাড়ে চার ঘণ্টা জেটি কাস্টমসের কাজ বন্ধ ছিল।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যে কেউ একই কায়দায় দাবি আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। আর এতে বন্দরের গতিশীলতা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হবে।

উল্লেখ্য, পণ্য খালাসে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পেয়ে গত ১৬ জানুয়ারি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট-কর্মচারীরা বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে জেটি কাস্টমস অফিসে হামলা চালায়।

জানতে চাইলে জেটি কাস্টমসে কর্মরত যুগ্ম কমিশনার গিয়াস কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, অডিও-ভিডিও ক্লিপ ও ছবি দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছি। সব তথ্য-উপাত্ত দেখে মনে হয়েছে এটি নাশকতামূলক ঘটনা। অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় ঢুকে সরকারি সম্পদ ভাঙচুর করা ফৌজদারি অপরাধ।’

গিয়াস কামাল আরো বলেন, ‘পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাস্টমস কমিশনার বরাবর রিপোর্ট পাঠিয়েছি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিধায় চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী। এর সঙ্গে বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারির ঘটনার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি সেখানে যান।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল আবদুল গফফার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুরক্ষিত এলাকায় এই ধরনের জমায়েত কেন হয়েছে তা আমরা যাচাই করে দেখছি। আর কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনকেও বলেছি, এ ব্যাপারে তারা যেন পদক্ষেপ নেয়। আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে আমরাও ব্যবস্থা নেব। এর জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে সাজানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, কাঙ্ক্ষিত কাজ না পেয়ে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর বন্দরের অফিসে কর্মরত ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার (মেরিন) এমদাদুল হকের ওপর হামলা করেন ঠিকাদার মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তাঁর নাক ফেটে যায়। তিনি বাথরুমে ঢুকে নিজেকে রক্ষা করেন। এরপর বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এর রেশ না কাটতেই গত ১৬ জানুয়ারি জেটি কাস্টমস অফিসে হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে ক্রেন অপারেটররা শ্রম শাখায় তালিকাভুক্তির দাবিতে কাজ বন্ধ করে মিছিল নিয়ে বন্দর গেটে মানববন্ধন করে। এসব ঘটনায় বন্দরের গতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর এ বিষয়ে বলেন, সংরক্ষিত এলাকায় এমন ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে তৃণমূল কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচিত দ্রুত পণ্য খালাসের অন্তরায়গুলো অনুসন্ধান করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলেই কেবল এর পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে।



মন্তব্য