kalerkantho


ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির জাতীয় সম্মেলন সমাপ্ত

’৭১-এ গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



’৭১-এ গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় জরুরি। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির রজত জয়ন্তী ও জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে দেশি-বিদেশি বক্তারা এ আহ্বান জানান।

বিকেলে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে নির্মূল কমিটির নতুন কমিটিও গঠন করা হয়। এতে শাহরিয়ার কবির সভাপতি ও কাজী মুকুল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

‘বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বি-মৌলবাদীকরণ কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সভাপতির বক্তব্যে তিনি গণহত্যা দিবস পালনের পাশাপাশি জঙ্গি মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই উন্নয়নের দিকে নজর দেয়। সরকার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের নানা উদ্যোগ নেয়। তবে বিএনপি-জামায়াত সেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে আসছে। এইচ টি ইমাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার জন্য ‘গণহত্যা দিবস’ নামের একটি দিবস পালনের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলোচনা করেছিলেন। এ বিষয়ে তখন মন্ত্রিসভায়ও আলোচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বিষয়টি নিয়ে তিনি (এইচ টি ইমাম) প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।

সেমিনারে নর্থ আমেরিকান জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাটর্নি উইলিয়াম স্লোন বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে দেশে আমরা গণহত্যা দেখেছি। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, গুয়াতেমালা, চিলি, বুরুন্ডিসহ বিভিন্ন দেশে গণহত্যা হয়েছে। তবে গণহত্যার স্বীকৃতির বিষয়টি জটিল। কেননা একটি দেশকে গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে দেশ এই গণহত্যা চালিয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হতে পারে। সে কারণেই অনেক দেশের গণহত্যার স্বীকৃতি মেলে না। তবে গণহত্যার ঘটনা যেন কোনোভাবেই চাপা না পড়ে সেদিকে মনোযোগী থাকতে হবে।’ 

শাহরিয়ার কবির সভাপতি ও কাজী মুকুল সাধারণ সম্পাদক : দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন গতকাল সকালে প্রতিনিধি সম্মেলন হয়। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে গঠনতন্ত্র সংশোধনী ও নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে শাহরিয়ার কবির সভাপতি ও কাজী মুকুল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।



মন্তব্য