kalerkantho


কৌশলে ক্লিনিকে নিয়ে দরিদ্র প্রসূতির নবজাতক চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কৌশলে ক্লিনিকে নিয়ে দরিদ্র প্রসূতির নবজাতক চুরি

দরিদ্র এক প্রসূতিকে কৌশলে ক্লিনিকে নিয়ে সন্তান প্রসবের পর তাঁর নবজাতককে চুরি করে নিয়ে গেছে অপরিচিত এক নারী। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকার নগর মাতৃসদন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ক্লিনিকের নার্স এলিজাবেথ ও ক্লিনিকের মাঠকর্মী তহুরা খাতুনকে আটক করেছে। অপরিচিত ওই নারী নিজেকে ‘ঢাকা থেকে আসা প্রসূতিবিষয়ক কর্মী’ পরিচয় দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আটক মাঠকর্মী তহুরা।

চুরি যাওয়া নবজাতকটির মায়ের নাম মুক্তি খাতুন। তিনি রাজশাহীর পবা উপজেলার চর শ্যামপুর এলাকার দিনমজুর নাসির উদ্দিনের স্ত্রী। নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, চুরির আগে ক্লিনিক থেকে পুরুষ স্বজনদের বের করে দেওয়া হয়। এরপর ক্লিনিকের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কথা থাকলেও ‘অজ্ঞাত কারণে’ তা খোলা রাখা হয়।

নবজাতকটির বাবা নাসির উদ্দিন ও নানি রোজিনা খাতুন জানান, নবজাতকটি জন্ম নেওয়ার আগ থেকেই আরবান প্রাইমারি হেলথ ক্লিনিকের মাঠকর্মী তহুরা বেশ কয়েকবার প্রসূতি মুক্তি খাতুনের বাড়িতে যান। গত বৃহস্পতিবার মুক্তির প্রসব বেদনা ওঠে। সেদিন তহুরা অপরিচিত এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিদের বাড়িতে যান। তহুরা নগরীর দাশপুকুর এলাকার হুমায়ন কবিরের স্ত্রী। তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা নারীকে ‘প্রসূতিবিষয়ক কর্মী’ এবং ঢাকা থেকে প্রসূতি বিষয়ে কাজ করতে এসেছেন বলে পরিচয় দেন। প্রসব বেদনা ওঠায় মুক্তি খাতুনকে তাঁর পরিবারের লোকজন নগরীর দাশমারী আরবান ক্লিনিকে ভর্তি করাতে চায়। কিন্তু ওই নারী তাতে আপত্তি জানিয়ে বলে, ‘এখানকার চেয়ে নওদাপাড়ার আরবান ক্লিনিকটি অনেক ভালো। ওখানেই প্রসূতিকে ভর্তি করাতে হবে।’ অপরিচিত ওই নারী এবং তার সহযোগী তহুরার কথামতো মুক্তি খাতুনকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নওদাপাড়া আরবান ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন মুক্তি। সিজারের প্রাথমিক খরচ বাবদ চার হাজার টাকা আরবান ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করে অপরিচিত ওই নারী।

নবজাতকটির নানি রোজিনা খাতুন জানান, নবজাতক জন্ম নেওয়ার পরও তহুরা এবং অপরিচিত ওই নারী ক্লিনিকেই ছিল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোজিনা ঘুমিয়ে পড়লে অপরিচিত ওই নারী শিশুটিকে দাদির কাছে নিয়ে যাচ্ছে বলে শিশুটিকে কোলে নেয়। এরপর কৌশলে শিশুটিকে নিয়ে সটকে পড়ে। ওই সময় ক্লিনিকের দায়িত্বে ছিলেন এলিজাবেথ নামের এক নার্স। তাঁর পরামর্শেই নবজাতকটিকে অপরিচিত ওই নারীর হাতে তুলে দেন তার নানি।

নবজাতকটির মামা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন নবজতাকটিকে নিয়ে চলে যায় ওই নারী, সে সময় ক্লিনিকের নিচের দরজা বন্ধ থাকার কথা ছিল। কারণ তার আগেই আমাদের সবাইকে ক্লিনিক থেকে বের করে দেওয়া হয়। রাতে কোনো পুরুষ থাকতে পারবে না বলে আমাদের বের করে দেওয়া হয়। এরপর শুধু প্রসূতির সঙ্গে তার নানি ও দাদিকে থাকতে দেওয়া হয়। সেই সুযোগেই রাতে নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারী।’ এ ঘটনায় তহুরা খাতুনকে প্রধান আসামি ও অপরিচিত নারীকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন শিশুটির নানি রোজিনা খাতুন।

নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে শিশু চুরির ঘটনা এটিই প্রথম ঘটল রাজশাহীতে। এর আগে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এমন প্রতারণার কৌশল সত্যিই অভিনব।’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মামলার আসামি তহুরা খাতুন ও ক্লিনিকের নার্স এলিজাবেথকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।



মন্তব্য