kalerkantho

বিসিসির উন্নয়ন

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে হাঁটাই বন্ধ!

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে হাঁটাই বন্ধ!

বরিশাল নগরীর 'সৌন্দর্য' বাড়াতে ফুটপাতে 'বক্স ডাস্টবিন' নির্মাণ করা হয়েছে। আর এতে করে সরু ফুটপাত আরো সরু হয়ে গেছে। সেই ডাস্টবিনের মাঝে মাঝে ফুলের টব স্থাপনের নামে চলছে কাঁটাজাতীয় গাছ রোপণ। এতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। আর ওই গাছগুলো একটু বড় হলে ফুটপাতে হাঁটাচলাই বন্ধ হয়ে যাবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) উদ্যোগে নগর ভবনের আশপাশের ফুটপাতের সৌন্দর্য আরো বাড়াতে অন্তত ৪৫টি স্থানে এসব ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয়েছে।

বিসিসি সূত্র জানায়, চলমান বাজেটে বৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। নগরের ফজলুল হক এভিনিউ ও এর দুই পাশের ফুটপাতে মোট ৪৫টি ডাস্টবিন নির্মাণ করা হবে। এই সড়কের এক পাশের ফুটপাত (উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়) মাত্র তিন ফুট চওড়া। এ কারণে সেখানে ফুটপাত ছেড়ে পাশের রাস্তায় ডাস্টবিন তৈরি করা হচ্ছে। অন্য পাশের ফুটপাত (জজকোর্ট) সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট চওড়া। সেখানে ফুটপাতের মধ্যে ২০ ইঞ্চি (দেড় ফুটের বেশি) চওড়া ও আড়াই ফুট লম্বা (দৈর্ঘ্য) ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছে। ফুটপাতে নির্মিত বক্সগুলোর একটা ফুলের টব ও একটা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার হবে। সে অনুযায়ী সারিবদ্ধভাবে তৈরি করা ডাস্টবিনগুলোর একটির পর একটি বক্সে কাঁটাজাতীয় পামগাছ রোপণের কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফজলুল হক সড়কের জজকোর্ট, টিঅ্যান্ডটি ও সিটি করপোরেশনের ফুটপাতের ওপর নির্মিত ডাস্টবিনগুলোর বেশ কয়েকটিতে কাঁটাজাতীয় পামগাছ রোপণ করা হয়েছে। ফুটপাত ধরে চলতে গিয়ে গাছের কাঁটায় পথচারীদের পোশাক আটকে যাচ্ছে।

উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, স্কুলের পাশের ফুটপাতে বৃক্ষ রোপণের পর প্রায়ই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে গাছের কাঁটায় আটকে তাদের পরিধেয় পোশাক ছিঁড়ে যাচ্ছে। স্কুলের আশপাশের ফুটপাতে নির্মিত ডাস্টবিনে কাঁটাজাতীয় গাছ না লাগানোর জন্য শ্রমিকদের বারণ করা হয়েছিল। তখন শ্রমিকরা বলছিল যে কর্তৃপক্ষ তাদের গাছ লাগাতে নির্দেশ দিয়েছে। গাছ না লাগালে তারা পারিশ্রমিক পাবে না।

নগর ভবনের সামনের কয়েকটি ডাস্টবিনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেখানে দিনমজুর আবুল হোসেন কাঁটাজাতীয় গাছ রোপণ করছিলেন। সোমবার সকালে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দুই দিন ধরে তাঁরা এই কাজ করছেন। ফুটপাতের ওপর নির্মিত বক্সেও একটি ফুলের টব ও একটা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার হবে। সে অনুযায়ী একটি বক্স পর পর গাছ লাগানোর কাজ চলছে। একই সময় নগর ভবনের ফুটপাত ধরে চলা পথচারী কামরুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, 'ফুটপাতের ওপর ডাস্টবিন, তার ওপর কাঁটাজাতীয় গাছ; এটা কোন ধরনের উন্নয়ন? হাঁটতে গিয়ে পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। এ ধরনের উন্নয়ন নগরের জন্য কাম্য নয়।'

বিসিসির বনায়ন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ফুটপাতের সৌন্দর্য আরো বাড়াতেই অন্তত ৪৫টি স্থানে এসব বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ রোপণ করা হবে। ইতিমধ্যে কাঁটাজাতীয় গাছ লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ফুলের গাছ লাগানো হবে। ফুটপাতে কাঁটাজাতীয় গাছ রোপণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'গাছগুলো যে কেউ উপড়ে ফেলতে পারবে না। গাছের কাণ্ড একটু বড় হলেই তা ছেঁটে দেওয়া হবে, যাতে করে পথচারীদের সমস্যায় পড়তে না হয়। তার পরও এগুলো চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে উপড়ে ফেলে দেওয়া হবে।'

বিসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মোতালেব হাওলাদার বলেন, 'মানুষ রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে নগরীর পরিবেশ নষ্ট করছে। সেটা প্রতিরোধ করতে ফুটপাতের যেখানে জায়গা বেশি এবং সড়কের যে অংশে লোকজনের যাতায়াত কম সেখানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। ফুটপাতের সবই ডাস্টবিন নয়। একটি ডাস্টবিনের পর একটি ফুলের টব বসানো হবে। এতে এক দিকে পরিবেশ দূষণ থেকে শহর রক্ষা পাবে, অন্যদিকে রোপিত গাছ নগরীর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দেবে।' তিনি আরো বলেন, 'পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করানো হচ্ছে। সফলতা এলে ব্যাপক কলেবরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।'

সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, 'ফুটপাতে চলাচলে মানুষের যাতে অসুবিধা না হয় সে বিষয়টি বিবেচনা করেই কাজ করা হচ্ছে। তা ছাড়া নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ফুটপাতে টবে ফুল গাছ লাগানো হচ্ছে। এ কারণে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে না।'

 

মন্তব্য