kalerkantho

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার রায় কাল

সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার রায় কাল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বুধবার রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক।

মামলার আসামিদের মধ্যে বর্তমানে সাতজন কারাগারে আছেন। তাঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র নাজমুল হাসান প্লাবন, দর্শন বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান সোহাগ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান, পরিসংখ্যান বিভাগের শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের নাজমুস সাকিব তপু। পলাতক আসামিরা হলেন প্রাণিবিজ্ঞানের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রিয়াজ ওরফে সোহান, জাহিদ হাসান, দর্শনের ইশতিয়াক মেহবুব অরুপ, রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। আসামিদের অধিকাংশই তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে পরদিন ৯ জানুয়ারি ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সে সময় 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষকরাও এ আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার তিন বছর পর রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

এদিকে জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের সব খুনিদের যথাযথ ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শির্ক্ষীরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিপূর্বে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হয়নি। যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। ফলে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ খুন হতে আসে না। তাই এই খুনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক। যাতে সংগঠকরা প্রমাণিত খুনিদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো ধরনের খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এড়াতে একটি নীতিমালা তৈরিরও দাবি জানান।

সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে জুবায়েরের সহপাঠী ও অন্যতম সংগঠক তামজিদা তুবা বলেন, 'আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আসামিদের রাষ্ট্রীয় আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি এবং এ রায় যেন শুধু খাতা-কলমে না থেকে কার্যকর হয় তারও দাবি জানাই।'

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তন্ময় ধর দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রত্যাশা করে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেল বলেন, 'দোষীরা যে দলেরই হোক, সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।' একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক মঞ্চের পক্ষে এর মুখপাত্র রায়হান রাইন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষে এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসেন।

উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, 'একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পক্ষে হত্যাকাণ্ড একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার হোক এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।'

প্রসঙ্গত, জুবায়ের হত্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নিবন্ধক হামিদুর রহমান আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

 

মন্তব্য