kalerkantho

মৃত ব্যক্তির 'জবানবন্দি' গ্রহণ করলেন ওসি!

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১২ বছর আগে মারা যাওয়া এক নারীকে সাক্ষী দেখিয়ে সম্প্রতি তার 'জবানবন্দি' গ্রহণপূর্বক একটি মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক রওশন মোস্তফা। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চিরিরবন্দর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষিকার যৌন হয়রানির একটি মামলায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে গত বছরের ১২ মে চিরিরবন্দর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সহকারী শিক্ষক রহিমা খাতুন। কিন্তু তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় উল্টো শিক্ষক রহিমা খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেনের অভিযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৭ মে রাস্তায় তাঁকে একা পেয়ে মারধর করেন ওই শিক্ষিকার স্বামী ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম এবং দেবর আব্দুর রাজ্জাক। তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয় স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে ওই রাতেই চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই আফতাব উদ্দিন।

পরে গত ২৭ নভেম্বর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। এই মামলায় সাক্ষী করা হয় চিরিরবন্দরের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সাহেদা খাতুনসহ চারজনকে। মামলার তদন্ত শেষে প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে গত ১৭ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশ পরিদর্শক রওশন মোস্তফা। তাতে সাক্ষী সাহেদা বেগমের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সাহেদা বেগম প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষিকার অনুপস্থিতির প্রতিবেদন দিয়ে তাঁকে বিপদে পড়তে হয়েছে। মামলায় যে চারজনকে সাক্ষী করা হয়েছে, তাঁরা কেউ স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। তাঁরা সবাই শিক্ষিকার নিকটাত্মীয়।

পুলিশ সুপার রুহুল আমিন জানান, মৃত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। আদালতের আদেশের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই। এ বিষয়ে পরিদর্শক রওশন মোস্তাফা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

 

মন্তব্য