• ই-পেপার

জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি

শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে বলে মন্ত্রব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হলেই আমরা সুন্দর ও স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারব।

(২০ জুন) ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-এর চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করব। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে সবাই চিনবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। যে গান করতে চায়, ছবি আকতে চায় বা কোরআন তেলাওয়াত করতে চায়— সব ব্যবস্থা সরকার করবে।
 
শিশুদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা এবং সংস্কৃতি চর্চায় পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই সুন্দর, শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে পারব। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড় তোমাদের মধ্যে থেকেই তৈরি হবে। অলিম্পিকে আরও ভালো অবস্থান তৈরি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার'স কাপ’ চালু হবে। অ্যাম্বাসেডর হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিশুদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সারাদেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক-বালিকা)’ ফাইনালে খেলে।

চূড়ান্ত পর্বে বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে। আর বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চূড়ান্ত পর্বের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ অন্য অতিথিরা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেবা সম্পূর্ণ অনলাইন ও অটোমেটেড করা হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেবা সম্পূর্ণ অনলাইন ও অটোমেটেড করা হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী

ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সেবা এখন পুরোপুরি অনলাইন ও অটোমেটেড করা হয়েছে। নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই ‘ভূমি’ অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদান ও নামজারিসহ (মিউটেশন) বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করতে পারছেন। পাশাপাশি যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য দেশব্যাপী ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী স্বল্প খরচে নাগরিকরা অনলাইন সেবা পাচ্ছেন।

শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রামে খুলশী কনভেনশন হলে ‘বিপিও সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর হেলাল বলেন, আমরা ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপের পাইলটিং শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা) কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত চলে আসবে। এই প্রযুক্তির ফলে অত্যন্ত কম খরচে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে।

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের মেধার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী। প্রাতিষ্ঠানিক বড় সহযোগিতা ছাড়াই তারা স্বশিক্ষিত হয়ে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে বিশ্বদরবারে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এই তরুণদের আরো কিছু বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাঙ্ক্ষিত সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবীরাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা যে সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছি, সেই অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের তরুণ প্রজন্ম। অতীতে দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর তরুণদের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

আইজিপির সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আইজিপির সঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সাক্ষাৎকালে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহায়তা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের বিপুল সমর্থন ও ভালোবাসার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের জনসাধারণের এই ফুটবলপ্রীতি ও আবেগকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি দুই দেশের পুলিশের মধ্যে পেশাগত সমন্বয় জোরদারসহ নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রীতিকে বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের আগ্রহের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাড়ছে তিস্তার পানি, ডুবতে পারে যেসব জেলা

বাসস
বাড়ছে তিস্তার পানি, ডুবতে পারে যেসব জেলা
সংগৃহীত ছবি

উজানে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এরই মধ্যে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। যা বর্তমানে ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে এমন অবস্থা চলমান থাকলে আগামীকাল রবিবার সকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপচেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার। 

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট ভারত খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে চরের অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ‘যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, শনিবার ভোরে তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যেকোনো সময় বন্যা হতে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের চরটি ইতিমধ্যে নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন, তবে পানি আরেকটু বাড়লে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গেল কয়েকদিন বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হুহু করে আসছে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। আমন ধানের চারার তৈরিকৃত বীজতলাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী বলেন, তার আবাদকৃত দেড় বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। পানি স্থায়ী হলে বড় লোকসান গুনতে হবে।

চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, চরে বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করা হয়েছে, কিন্তু হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে সেগুলো তলিয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়ে গেছি।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা | কালের কণ্ঠ