kalerkantho

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস কাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ২০:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস কাল

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস আগামীকাল। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে জয়দেবপুরের সংগ্রামী জনতা পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু করেছিলেন।

১৯ মার্চের বীরত্বকে অমর করে রাখতে ১৯৭২-১৯৭৩ সালে গাজীপুরের চৌরাস্তায় একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামের এই ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য।

দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল ঢাকা ও গাজীপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও আগামীকাল সন্ধ্যায় প্রথম স্বসস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের বীরদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও বিকেল ৪টায় গাজীপুর জেলা শহরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে এক সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সে দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে গাজীপুর সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৭ মার্চ ৭১ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিনে লাখ লাখ জনতার ঢল নেমেছিল ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। এসময় কুর্মিটোলা (ঢাকা) ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে অজুহাতে জয়দেবপুরে ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করে ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে রক্ষিত অস্ত্র আনার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রের সংবাদ বঙ্গবন্ধুকে জানাই।

এ অবস্থায় আমাদের কি করণীয় জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তুই একটা আহম্মক, কি শিখিছিস যে আমাকে বলে দিতে হবে’। একটু পায়চারী করে রাগতস্বরে বললেন ‘বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে দেয়া যাবে না। নেতার হুকুম পেয়ে গেলাম।

তিনি জানান, ১৯শে মার্চ আকস্মিকভাবে পাকিস্তনি বিগ্রেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়বেদপুরস্থ (গাজীপুর) ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়। তখন বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক জনতা চারিদিক থেকে লাঠিসোটা, দা, কাতরা, ছেন, দোনালা বন্দুকসহ জয়দেবপুর উপস্থিত হয়।

মোজাম্মেল হক জানান, জয়দেবপুর রেল গেইটে মালগাড়ীর বগি, রেলের অজেকো রেল লাইন, স্লিপারসহ বড় বড় গাছের গুড়, কাঠ, বাঁশ, ইট ইত্যাদি যে যেভাবে পেরেছে তা দিয়ে এক বিশাল ব্যারিকেড দেয়া হয়। জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত আরো ৫টি ব্যাড়িকেড দেয়া হয় যাতে পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র নিয়ে ফেরৎ যেতে না পারে। ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন-কমান্ড মেজর কে এম শফিউল্লাহকে (পরবর্তীকালে প্রধান সেনাপতি) জনতার উপর গুলি বর্ষণের আদেশ দেয়া হয়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা আমাদের/জনতার উপর গুলি না করে আকাশের দিকে গুলি ছুঁড়ে সামনে আসতে থাকলে আমরা বর্তমান গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উপর আবস্থান নিয়ে বন্দুক ও চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সেনাবাহিনীর উপর পালাক্রমে গুলি বর্ষণ করি। 

মন্ত্রী জানান, আমরা যখন ব্যারিকেড দিচ্ছিলাম তখন টাঙ্গাইল থেকে রেশন নিয়ে একটি কনভয় জয়দেবপুর আসছিল। সে রেশনের গাড়িকে জনতা আটকে দেয়। সে কনভয়ে থাকা ৫ জন সৈন্যর চাইনিজ রাইফেল ও এলএমজি তাদের নিকট থেকে কেড়ে নেয়া হয়। এদিকে রেল গেইটের ব্যারিকেড সরানার জন্য ২য় ইস্ট বেঙ্গলের রেজিমেন্টকে বিগ্রেডিয়ার জাহান জেব আদেশ দেয়। পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে জয়দেবপুরে কয়েকজন শহীদ হন আহত হন শত শত বীর জনতা। বর্তমানে সেই স্থানে চৌরাস্তার মোড়ে ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামে ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে।

মন্তব্য