kalerkantho


নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন সিলেটের পারভীন

নিহত আরেকজন বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ১২:৪৭



স্বামীকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন সিলেটের পারভীন

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মুসল্লিদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হোসনে আরা পারভীন (৪৫)। তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। নিহত অন্য বাংলাদেশি হলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ। নিইজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের লিংকন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অধ্যাপক ছিলেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সিলেট : নিহত বাংলাদেশি হোসনে আরা পারভীন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের মেয়ে। দেশে থাকা স্বজনরা তাঁর আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। স্বজনদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

হোসনে আরা পারভীনের ভাগ্নে দেলওয়ার হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে নিউজিল্যান্ড থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে আমাদের এক আত্মীয় জানান খালা মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় খালু ফরিদ উদ্দিনকে নিয়ে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে খালুকে মসজিদের ভেতর পৌঁছে দিয়ে তিনি পাশে নারীদের মসজিদে নামাজ পড়তে যান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে সেখান থেকে বেরিয়ে খালুর খোঁজ নিতে মসজিদের ভেতর গেলে গুলির মুখে পড়ে নিহত হন।’ তবে এর আগেই ফরিদ মিয়াকে অন্য মুসল্লিরা নিরাপদে বের করে আনেন। বিষয়টি হোসনে আরা জানতেন না বলে জানান দেলওয়ার।

দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট হোসনে আরা। স্থানীয় কোনাচর শাহজালাল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন ১৯৯১ সালে। পরের বছর ১৯৯২ সালে বিশ্বনাথ উপজেলার উত্তর মিরের চর গ্রামের মৃত মকররম আলীর ছেলে ফরিদের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। এর দুই বছর পর ১৯৯৪ সালে তিনি নিউজিল্যান্ড পাড়ি জমান। ক্রাইস্টচার্চ শহরে এই দম্পতি বসবাস করতেন। শিপা আহমদ (১৭) নামে তাঁদের এক মেয়ে রয়েছে।

এ ঘটনায় হোসনে আরার শ্বশুরবাড়ি বিশ্বনাথের উত্তর মিরের চর গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম : ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামের ড. আব্দুস সামাদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। নাগেশ্বরী উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বাড়িতে এখন উত্সুক মানুষ ভিড় করছে।

সামাদের স্বজনরা জানায়, ২০১৩ সাল থেকে সামাদ পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের অ্যাগলি পার্কে বসবাস করে আসছেন। তিনি নিউজিল্যান্ডের লিংকন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ডিন্স এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদের মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি তিন সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রীর নাম কিশো-আরা বেগম। তারেক রহমান ও তানভীর হাসান নামে আরো দুই ছেলে নিউজিল্যান্ডে থাকেন। এর মধ্যে তানভীর মানসিক প্রতিবন্ধী। তাঁর বড় ছেলে তোহা মাহমুদ ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত।

বাকৃবি : নিহত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন জানান, অধ্যাপক আব্দুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। তিনি নিউজিল্যান্ডে সিটিজেনশিপ নিয়ে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করতেন। আরেক ছেলে বাংলাদেশেই থাকেন।



মন্তব্য