বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ কথা বলেন।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশে পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
তিনি বলেন, বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো স্বস্তিদায়ক নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য সূচকে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হলেও তা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথেষ্ট নয়।
ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী বর্তমান অর্থবছরে এটি ৫ শতাংশ এবং বিবিএসের হিসাবে তা ৪ শতাংশের কিছু বেশি।
আরো পড়ুন
দেশের ভঙ্গুর অবস্থায় সবচেয়ে ভালো বাজেট হয়েছে : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যা ২৩-২৪ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা কমে ২১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯.৪ শতাংশের ওপরে থাকলেও আগামী অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ।
এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে উল্লেখ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূলত খাদ্য ও জ্বালানি খাতের সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক সংকট এতে প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কার্যকর বাজার তদারকির ওপর জোর দেন।
আরো পড়ুন
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের কিছু মূলনীতি জানালেন মাহদী আমিন
বৈদেশিক খাতের কথা উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, ২০২৭ সাল নাগাদ রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭.৯ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তাকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ১২৭ টাকা হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, তা টাকার আরো অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।
বাজেট কাঠামো বিশ্লেষণ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপির তুলনায় ঋণের হার ৩৮.৬ শতাংশ। আইএমএফ-এর মতে এটি এখনও সহনশীল সীমার নিচে থাকলেও ঋণের স্থায়িত্বের ঝুঁকি ‘নিম্ন’ থেকে ‘মাঝারি’র দিকে যাচ্ছে।
আরো পড়ুন
পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার-ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ
তিনি জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা গত বছরের তুলনায় ৩১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৭.৭ শতাংশ করা হয়েছে।
সিপিডি মনে করে, বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়নের দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন–সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিনিয়র গবেষণা অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাসিয়াত প্রিয়তিসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।