kalerkantho


বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখার পথিকৃৎ ডা. দিলীপ ভট্টাচার্য

তৌফিক মারুফ    

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪৬



বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখার পথিকৃৎ ডা. দিলীপ ভট্টাচার্য

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ। ছাত্রসংগ্রাম পরিষদেও পূর্ববাংলার চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের  অবদান কম নয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরির অন্যতম রূপকারদের মধ্যেও ছিলেন চিকিৎসক। দেশের চিকিৎসক সমাজ এ নিয়ে সব সময় গর্বও করে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পাকিস্তান আমলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন চিকিৎসক-শিক্ষক ডা. দিলীপ ভট্টাচার্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখতেন বাংলায়। দাপ্তরিক বিল তৈরি করতেন বাংলায়। এ নিয়ে ওই সময় তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। ডা. দিলীপ ভট্টাচার্যের দেখানো ওই পথে বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখার চিকিৎসক বর্তমানে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। যদিও অনেকে ওষুধ সেবনের নিয়ম বাংলায় লেখেন, কিন্তু ওষুধের নাম ঠিকই লেখেন ইংরেজিতে।

‘বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখা এখন আর কোনো সমস্যা নয়। তবে এটি মানসিকতা এবং অভ্যস্ততার বিষয়।’ এই অভিমত বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার রশিদ ই মাহবুবের।

তাঁর মতে, ‘বাধ্যবাধকতার কারণে বর্তমানে ওষুধের মোড়কে, ভেতরে থাকা বিবরণপত্রে বাংলা লেখা হচ্ছে। তাহলে ব্যবস্থাপত্রও বাংলায় লিখলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম-নির্দেশনা ইংরেজিতে থাকতে পারে। চিকিৎসকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে। নয়তো হাতের লেখা পরিষ্কার করার মতো আদালত কিংবা সরকারের তরফ থেকে বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখার নির্দেশনা আসতে পারে যেকোনো সময়।’

ডা. দিলীপ ভট্টাচার্যের বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখার তথ্য জানিয়ে রশিদ ই মাহবুব বলেন, ‘তখন তো সবই ইংরেজিতে ছিল। তার পরও তাঁর রোগীরা ঠিকই বাংলা ব্যবস্থাপত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এখন তো আরো সুবিধা হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের মাতৃভাষার আবেগও জড়িত। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের কথা আমরা সবাই বলছি, সেখানে বাংলায় ব্যবস্থাপত্র লেখায় চিকিৎসকদের অনীহার কারণ তো দেখছি না!’

ওষুধের মোড়কে বাংলা লেখার প্রচলনের বিষয়ে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, বর্তমানে সব ওষুধের মোড়কেই বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক। ভেতরে পরিচয় বা বিবরণীপত্রও বাংলায় লেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইংরেজিও থাকছে। আর চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র বাংলায় লেখার বাধ্যবাধকতা আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে রোগীদের স্বার্থেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসির ভূমিকা নেওয়া উচিত। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকে ইংরেজি পড়তে-বুঝতে পারে না। কিন্তু অসুখ হলে সবাইকে ওষুধ সেবন করতে হয়। এই দিকটা চিকিৎসকদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এ ছাড়া মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি তো রয়েছেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র বাংলায় না লেখার পেছনে দায়ী অনভ্যস্ততা। বই পুস্তকে ইংরেজি থাকলেও আমরা চাইলেই বাংলায় লেখার অভ্যাস করতে পারি। এটা কঠিন কিছু না। এটাই হওয়া উচিত।’



মন্তব্য