• ই-পেপার

শেরপুর-২

ভোট দিলেন মতিয়া চৌধুরী

যে রোগে আক্রান্ত মো. সাহাবুদ্দিন

‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’র লক্ষ্মণ কী

অনলাইন ডেস্ক
‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’র লক্ষ্মণ কী

শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সদ্যসাবেক এই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে যেসব শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, এর মধ্যে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের জটিল রোগটি আলোচনায় এসেছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। তিনি লেখেন, এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো এমন একটি স্নায়ুরোগ, যেখানে শরীরের স্বয়ংক্রিয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, হজম, মূত্রথলির কার্যকারিতা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এমনকি যৌনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হতে পারে। দাঁড়ানোর সময় হালকা মাথা ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এ রোগের প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু অটোইমিউন রোগ, স্নায়বিক সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে। এছাড়া পারিবারে এই রোগের ইতিহাস থাকলে তা হতে পারে।

রোগের লক্ষণগুলো

১. দাঁড়ানোর সময় হালকা মাথা ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে হওয়া (অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন)

২. কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়া

৩. মূত্রাশয়ের কর্মহীনতা, যেমন প্রস্রাব শুরু বা বন্ধ করতে অসুবিধা হওয়া

৪. যৌন কর্মহীনতা, যেমন পুরুষত্বহীনতা বা প্রচণ্ড উত্তেজনা অর্জনে অসুবিধা হওয়া

৫. গিলতে অসুবিধা

৬. গ্যাস্ট্রোপেরেসিস, বা পেট খালি হতে বিলম্ব হতে পারে

৭. অস্বাভাবিক ঘাম বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না থাকা

৮. শুকনো চোখ এবং মুখ

৯. বুক ধড়ফড় করা

১০. সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা হওয়া

অটোনমিক নিউরোপ্যাথির স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগের কারণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপসর্গ কমিয়ে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা।

ডায়াবেটিসজনিত ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে গুরুতর অবস্থায় বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা রক্তচাপের বড় ধরনের ওঠানামা রোগীর দৈনন্দিন জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

রবিবার বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক
রবিবার বঙ্গভবন ছাড়বেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করা সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়বেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কালের কণ্ঠকে তার পরিবারের এক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির বঙ্গভবন ছেড়ে দেবেন। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

বঙ্গভবন ছেড়ে মো. সাহাবুদ্দিন পরিবারসহ রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় উঠবেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আজ বিকেলে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পিকার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র আজ বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্পিকার বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে স্পিকার বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে অসামর্থ্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

স্পিকার বরাবর লেখা মো. সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কথা। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের ভূমিকার কথাও লিখেছেন পদত্যাগপত্রে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীরা। গণ-অভ্যুত্থানের পর এ দাবিতে একাধিক আন্দোলনও হয়েছে।

ফিলিপাইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আলোচনা

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেস লাজারোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নার্সিং খাতে সহযোগিতা, চিকিৎসা পর্যটনের জন্য ভিসা সহজীকরণ ও ব্যবসা প্রসারসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি (টিএসি) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের এই বৈঠক হয়।

এ সময় খলিলুর রহমান আসিয়ানের খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বর্তমান আসিয়ান সভাপতি ফিলিপাইনের সমর্থন চান। উভয় মন্ত্রী নিজ নিজ দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে কাতারের আমিরকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কাতারি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশটির আমিরের জন্য একটা চিঠি হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। এতে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ দিন টিএসির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, উদীয়মান হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ আসিয়ান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সহযোগিতা বৃদ্ধি চুক্তির (টিএসি) সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে। যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, যৌথ ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলা ব্যবস্থার মতো বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মহামারি, জলবায়ু অভিঘাত, সাইবার ঘটনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা যেতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আলোচনায় উদীয়মান হুমকি ও চ্যালেঞ্জ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্ররোচিত সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক মাধ্যমের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবেলার কর্মপন্থা তুলে ধরেন।

ভোট দিলেন মতিয়া চৌধুরী | কালের কণ্ঠ