kalerkantho


‘মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুমাই, জীবনটাকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছি’

‘ফিট থাকতে নিয়মিত নামাজ পড়ি’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:১৬



‘মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুমাই, জীবনটাকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছি’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিজের জীবনটাকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছি। আসলে আমার নিজের বলতে কিছু নেই। রাতে ৫ ঘণ্টা ঘুমাই। আর বাকি সময় চেষ্টা করি, কত দ্রুত আমার কাজগুলো শেষ করতে পারি।’

সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘লেট’স টক’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ডা. নুজহাত চৌধুরীর ‘এত খাটেন, আপা নিজের জন্য সময় পান?’ এমন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, ‘কারণ, আমি জানি যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে হতে পারে। কখনো গুলি, কখনো গ্রেনেড হামালায়। তাই প্রতিটি মুহূর্তে দেশের মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

তরুণদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপনের ওই অনুষ্ঠানে এত পরিশ্রমের মাঝে শরীরকে কিভাবে ঠিক রাখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবনে রুটিন ঠিক থাকে না। তবে ফিট থাকতে- আমি নামাজ পড়ি নিয়মিত।’

তিনি বলেন, ‘তেমন ব্যায়াম করার সুযোগ হয় না। আর গণভবনে থাকা বন্দিজীবনের মতন। তারপরও চেষ্টা করি সকালে উঠে একটু হাঁটতে। ছাদে হাঁটি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরিমিতভাবে খেলে সুস্থ থাকা যায়। আর চিন্তা-ভাবনাকে সচ্ছ রাখা এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আমি সুস্থ্য থাকব এটা ভাবা।’

সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘লেট’স টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তরুণদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, তরুণ পেশাজীবী, অ্যাথলেটস, খেলোয়াড়, সংস্কৃতিকর্মীসহ দেড়শোর মতো তরুণ অংশ নেন।

তরুণদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোনেন তরুণদের স্বপ্নের কথাও।

রান্নাঘরের কথা থেকে শুরু করে, কৈশরের দুরন্তপনা, স্কুলজীবনের মজার ঘটনা, মায়ের কাছে আবদার মেটানোর কৌশল, পারিবারিক ট্র্যাজেডি, বাধার পর বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলার গল্পসহ প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা কথা উঠে এসেছে লেট’স টক অনুষ্ঠানে।

দেশ ও জনগণকে নিয়ে তরুণদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা, তারা প্রধানমন্ত্রী হলে কী করবে সেসব কথাও শোনেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

গত ২৩ নভেম্বর, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এ লেট’স টক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় লেট’ট টকে বহুবার তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কথা বললেও এই প্রথম তরুণদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের ইতিহাসেও প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মুখোমুখি হলেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, তরুণ পেশাজীবী, অ্যাথলেটস, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ দেড়শ’র মতো তরুণ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, তাদের কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শৈশব, কৈশরের দুরন্তপনা-মজার ঘটনা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে আন্দোলনে যোগ দেওয়া, মায়ের কাছে আবদার মেটানোর কৌশল, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অবরুদ্ধ জীবন, ৭৫ পরবর্তী নির্বাসিত জীবন, এই বয়সে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের সঙ্গে শিশুসুলভ পারিবারিক জীবন, রান্না ঘরের কথা, রাজনৈতিক সংগ্রাম, সফলতা-ব্যর্থতার কথা, প্রতিবন্ধকতার কথা, এগিয়ে যাওয়ার পেছনের শক্তির কথা, ধার পর বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প, কারাজীবন, দেশকে এগিয়ে নিতে সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন-পরিকল্পনাসহ নানা অজানা কথা উঠে আসে।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে তরুণদের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা, চাওয়া-পাওয়ার কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায়? এবং তারা প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের কোন কোন বিষয়ে প্রথম মনোযোগ দিতো? এ রকম বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তরুণদের মনের কথা, স্বপ্নের কথা জেনে নেন শেখ হাসিনা।

প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন, উঠে আসা অন্তরালের নানা ঘটনা নিয়ে অপেক্ষা করছে ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় তা প্রচার হবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।



মন্তব্য