kalerkantho


শনিবার থেকে সেনাবাহিনীর রেকি

স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে ২৪ ডিসেম্বর থেকে

বিশেষ প্রতিনিধি    

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৪৩



শনিবার থেকে সেনাবাহিনীর রেকি

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান/প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিলনায়তনে এ বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশন সচিব গত রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, ‘আমরা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়েছিলাম। তাদের সম্মতি পাওয়া গেছে।’ এর আগে ১৫ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে রেকি করবে সেনাবাহিনী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা গত ২২ নভেম্বর আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘১৫ ডিসেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনী ছোট ছোট দলে জেলায় জেলায় যাবে। এদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। অন্যান্য বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।’ এ বিষয়ে সচিব গত রাতে বলেন, ‘তারা কোথায় থাকবে, কী অবস্থায় থাকবে—এসব বিষয়ে ১৫ ডিসেম্বর থেকে রেকি শুরু হবে।’ এদিকে সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, আজই সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া শেষ হচ্ছে। এবারের শীতকালীন মহড়াও হয়েছে সংক্ষিপ্ত। গত ২৫ নভেম্বর এ মহড়া শুরু হয়।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সাধারণ এলাকা, মেট্রোপলিটন এলাকা এবং উপকূলীয়, দুর্গম ও পার্বত্য এলাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য আলাদা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। দশম জাতীয় নির্বাচনের আদলে এবারও আইন-শৃঙ্খলায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ছক। ভোটকেন্দ্র পাহারার ক্ষেত্রে সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশসহ ১৪ জন, মেট্রোপলিটন এলাকার কেন্দ্রে তিনজন পুলিশসহ ১৫ জন এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার কেন্দ্রে দুজন পুলিশসহ ১৪ জন রাখার বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা রেখেছে ইসি।

তবে ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখতে বাইরে থাকবেন সামরিক-আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। আর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দেবেন। কিন্তু কেন্দ্রে প্রবেশে অনুমতি লাগবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং অফিসারের। এ ছাড়া নির্বাচনের বিধি ভঙ্গ, প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য, চরিত্র হননের অপচেষ্টা প্রতিরোধে মাঠে থাকবেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা। ইসির কার্যপত্রের তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রায় সাত লাখের কাছাকাছি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকেবেন।

এসব বাহিনী ৩০০ সংসদীয় আসনের ৪০ হাজার ১৮০টি কেন্দ্র পাহারা এবং ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন ভোটারের নির্বিঘ্নে ভোটদানে সহায়তা দিতে কাজ করবে। কমিশনের যুগ্ম সচিব খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ বেশি হলেও ভিআইপি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, থানা প্রশাসন শূন্য করে সব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে এ কাজে যুক্ত করা যাবে না। ফোর্স মোতায়েন হলে কিভাবে সব কুল বজায় থাকবে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

ইসির সূত্র মতে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটগ্রহণের আগে ও পরে ভিন্ন মেয়াদের জন্য সেনা, র‌্যাব, পুলিশসহ অন্য বাহিনী মোতায়েন করতে যাচ্ছে ইসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নেমে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্ট্রাইকিং এবং মোবাইল টিম হিসেবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। ২৯ ডিসেম্বর ৩০০ আসনে সব মিলিয়ে ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামবেন। তাঁরা ভোটের পর দুই দিনসহ সব মিলিয়ে চার দিন মাঠে থাকবেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও একইভাবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছিল ইসি। তবে ২০০৮ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন করা হয়। 



মন্তব্য