kalerkantho


নির্বাচনে পেছাতে পারে বই উৎসব

শরীফুল আলম সুমন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:২২



নির্বাচনে পেছাতে পারে বই উৎসব

আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণত ভোটগ্রহণের পরের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ফলে ১০ বছর ধরে ১ জানুয়ারি বই উৎসব পালন করা হলেও এবার তা পেছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতেই সব বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষে চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিনা মূল্যের পাঠ্য বই ছাপা হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বইয়ের সংখ্যা ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপাতে বিদেশি দুটিসহ মোট ৫৪টি প্রতিষ্ঠান এবং মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপতে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছে এনসিটিবি। এরই মধ্যে ৮৫ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ভোটগ্রহণের জন্য আমাদের দেশে স্কুল-কলেজগুলো ব্যবহার করা হয়। আর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদেরও বড় অংশ হচ্ছেন শিক্ষকরা। আগামী ৭ থেকে ১৫ ডিসেম্বর এবং ১৮ থেকে ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ভেন্যুও থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর নির্বাচনের আগের দিন থেকে ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্রগুলো ছেড়ে দিতে হবে। ফলে ১০ ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত স্কুল-কলেজগুলো নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। শিক্ষকরাও একই কাজে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে ১ জানুয়ারি বই উৎসবের প্রস্তুতি গ্রহণও শিক্ষকদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে।

শিক্ষকরা জানান, বছরের প্রথম দিন বই উৎসবের জন্য প্রতিটি স্কুলকেই আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। উপজেলা থেকে বই এনে শিক্ষার্থীদের জন্য সেট মেলাতে হয়। সাধারণত বছরের শেষ সপ্তাহেই একই কাজ করা হয়। কিন্তু এবার ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হওয়ায় এই কাজে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হবে। 

জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের পরের দিন সাধারণত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। ফলে কবে বই উৎসব হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। তবে আমরা যথাসময়েই বই উৎসব করার জন্য প্রস্তুত। এরই মধ্যে ৮৫ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে। ৫ শতাংশ বই প্রিন্টিং পর্যায়ে আছে। আশা করছি, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রায় শতভাগ বই পৌঁছে যাবে।’

নাম প্রকাশ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বই উৎসবের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। তবে আরো কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বই উৎসবের দিন ঠিক করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে ১৫ শতাংশ বইয়ের কাজ বাকি আছে এর বেশির ভাগই কয়েকটি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান কম বইয়ের কাজ পেয়েছিল, তাদের বই সবার আগে পৌঁছেছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান বেশি কাজ পেয়েছে তাদের বই সরবরাহেই দেরি হচ্ছে। তবে এবার বই সরবরাহের সর্বশেষ ডেডলাইন ১৪ ডিসেম্বর।

সূত্র জানায়, যারা এখনো বই সরবরাহ করতে পারেনি তারা মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ফাঁকি খুঁজছে। কারণ দেশে নির্বাচনী ঘনঘটা শুরু হলে বইয়ের মানের দিকে এখনকার মতো নজর দেওয়া সম্ভব হবে না। যথাসময়ে বই পৌঁছানোটাই হবে বড় দায়িত্ব। তখন নিম্নমানের কাগজ ও কালিতে বই ছেড়ে দেশের দূর-দূরান্তে সরবরাহের চিন্তা-ভাবনা করছে কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান। এ জন্যই তারা বই সরবরাহে ঢিলেমি করছে।

জানা যায়, কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানকে এবারও সক্ষমতার বেশি বইয়ের কার্যাদেশ দিয়েছে এনসিটিবি। সাধারণত একই প্রেস ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে কাজ নিয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান। আর এ কাজে তারা এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তাকেও ম্যানেজ করেছে। 

এনসিটিবি সূত্র জানায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বই সরবরাহের কাজ নিয়ে দেরিতে ছাপার কাজ শুরু করায় তাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর জবাব পাওয়ার পর আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে হক প্রিন্টিং প্রেস, নিবেদিকা প্রিন্টিং প্রেস, এআরটি প্রিন্টিং প্রেস অন্যতম। এ ছাড়া নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার কারণে রায়ান প্রিন্টিং প্রেসের সাড়ে চার হাজার কপি বই বাতিল করা হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ হাজার কপি বই কেটে ফেলা হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বইয়ের মানের ক্ষেত্রে আমরা কোনো আপস করব না। কেউ দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করলে বিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দিষ্ট সময়েই আমাদের সঠিক মানের বই সরবরাহ করতে হবে।’



মন্তব্য