kalerkantho


স্থূলতা সমস্যা সমাধানে দুই লাখ কেজি ওজন কমানোর উদ্যোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:১০



স্থূলতা সমস্যা সমাধানে দুই লাখ কেজি ওজন কমানোর উদ্যোগ

বর্তমানে বিশ্বে স্থূলতা একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। ছোট থেকে বড় সবাই এখন এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের প্রায় ৬৫ কোটি মানুষ বিভিন্ন মাত্রার স্থূলতায় ভুগছেন। ঢাকা শহরেও এর সংখ্যা কম নয়। ক্রমবর্ধমান এ সমস্যাকে চিহ্নিত করে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ঢাকা শহরে ২০২০ সালের মধ্যে দুই লাখ কেজি ওজন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার।

গত শনিবার সকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘স্থূলতা সম্পর্কিত’ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ডায়েট কাউন্সিলিং সেন্টার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুলস্নাহ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা এস. কে. রায়, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহীন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের উপদেষ্টা আবিদ.এ.আজাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্থুলতা সমস্যার উপরে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। পরে ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষিতদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। সংগঠনটির ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘২০২০ সালের মধ্যে ২ লাখ কেজি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।   

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষের শরীরকে সৌন্দর্যের মধ্যে আনার চেষ্টায় হলো পুষ্টিবিদ্যা। পুষ্টির বিষয়টি প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবেচেয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনের ভারসাম্য। ভারসাম্যর কারণেই জীবন ও পৃথিবী সুন্দর। জীবনকে সুন্দর করতে তাই শরীরকে ভারসাম্য করতে হয়। বর্তমানে স্থুলতা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি এখনি বাঁধা না দেই তাহলে এই সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। শরীরকে ভারসাম্যের মধ্যে আনতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। সচেতনতা স্থূলতা কমাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এই সমস্যা কমাতে চিকিত্সার চেয়ে মানুষকে জাগিয়ে তোলা সবচেয়ে বেশি দরকার। 

সৈয়দা শারমিন আক্তার বলেন, নগর জীবনে খোলা জায়গা তেমন নেই। ফিজিক্যাল মুভমেন্ট করার তেমন সুযোগ নেই। এই অবস্থায় মানুষের মাঝে দিনকে দিন স্থুলতা বেড়ে যাচ্ছে। অনেককে সামাজিকভাবে হেয় হতে হচ্ছে। মানুষের মাঝে হতাশা বেড়ে যাচ্ছে। কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। স্থুলতা একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  তবে শুধু খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ওজন কমানো যাবে না। কারণ শরীরের যে পরিমাণ ক্যালরি জমা রয়েছে তা আগে কমাতে হবে। ফলে প্রয়োজন শারীরিক পরিশ্রম। আর এই লড়্গ্যে ২০২০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী দুই লাখ কেজি ওজন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এই উদ্যোগ সফল করতে দেশের সকল পুষ্টিবিদ কাজ করবে।



মন্তব্য