kalerkantho


মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন

৪৭০ কিমি নৌপথ খনন করবে বাংলাদেশ-ভারত

বিশেষ প্রতিনিধি    

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৫১



৪৭০ কিমি নৌপথ খনন করবে বাংলাদেশ-ভারত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত নৌ ট্রানজিট প্রটোকলের আওতায় দুই দেশের মধ্যে ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে। এতে যে খরচ হবে তার ৮০ শতাংশ বহন করবে ভারত। বাকি ২০ শতাংশ খরচ বাংলাদেশের। প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড সংশোধন করে এই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। গতকাল সোমবার এসংক্রান্ত খসড়াটি ভূতাপেক্ষভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নৌচলাচল সহজ করতে ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করবে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার। সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত এই নদীপথ খনন করতে ভারত ৮০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকার ২০ শতাংশ খরচ বহন করবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে নৌ প্রটোকল, এখানে পোর্ট অব কল হিসেবে বাংলাদেশের পানগাঁও ও ভারতের আসামের ধুবড়ি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ নো ম্যান্স এরিয়াতে প্রয়োজনে বিজিবি এবং বিএসএফের সহযোগিতায় ইমার্জেন্সি সার্ভিস গ্রহণ, ক্রু বা নাবিকদের মরদেহ দেশে আনার সহজীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদসচিব আরো জানান, বাংলাদেশের ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্রেইলার ভারতের অভ্যন্তরে আগরতলা আইসিবি পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করা হয়েছে। সংশোধিত প্রটোকল অনুযায়ী, সেখানে আনলোড করার বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে

মন্ত্রিসভাকে বাংলাদেশ ও ভারতের নৌসচিব পর্যায়ের সভায় ভারতীয় পণ্যসামগ্রী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিবহনের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান শফিউল আলম।

নির্বাচনকালীন সরকার শুধুই ‘নাম’ : একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘নির্বাচনকালীন সরকারের’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না এলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ‘ওই সরকারের’ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে বলে মনে করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিডিউল ঘোষণার শুরু থেকেই বলতে হয়, এই সরকার নির্বাচনকালীন সরকার। কনস্টিটিউশনে যদিও ওভাবে লেখা নেই আসলে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার রেগুলার সরকারই আছে। এগুলো (নির্বাচনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) আমাদের দেওয়া নাম, এগুলো কিন্তু কনস্টিউশনাল নাম না।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদনে কোনো বাধা নেই। ‘আইন অনুমোদন কেবিনেটের কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে, রুটিনই বলা যায় এটা। এটাতে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পকে স্পর্শ করে না।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী পদত্যাগপত্র দিলেও তা গ্রহণ করে গেজেট জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের মন্ত্রিত্ব বহাল থাকবে।

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁদের পদত্যাগপত্র কবে গৃহীত হতে পারে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘এটা আমার বলা মুশকিল।’



মন্তব্য