kalerkantho


ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সংবাদ সম্মেলন

নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের দাবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:১৫



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলার ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করার দাবি জানিয়েছে সারাদেশে কর্মরত নাগরিক ও পরিবেশবাদি ৩৮টি সংগঠনের জোট বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম। ফোরামের পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় জলবায়ু কমিশন গঠন ও অভিন্ন জলবায়ু নীতিমালা প্রণয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলাদেশ (এনসিসি’বি)’র কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, জলবায়ু সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন, সিডিপি’র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম, পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক নিখিল ভদ্র প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত ওই ফোরামের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকল রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করা হয়। বলা হয়, জলবায়ু অর্থায়নকে একটি তহবিল থেকে পরিচালনার লক্ষ্যে এবং জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবিলম্বে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন সংশোধন করে ‘জাতীয় জলবায়ু নীতিমালা’ ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জলবায়ু কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাবিত কমিশনে জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সংবাদমাধ্যম, বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গণঅংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং দেশের প্রধান প্রধান ইকো সিস্টেমের ঝুঁকিসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। 

আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের হাত থেকে সর্বাধিক বিপন্ন মানুষদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ‘সামজিক সুরক্ষা বেষ্ঠনি’ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুতদের পূর্নবাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। ন্যাপ প্রকল্প প্রণয়নে প্রস্তাবিত কারিগরি উপদেষ্টা বোর্ডে জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত এনজিও ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

‘জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠনকালে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ আসন এনজিও ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। ন্যাপ বাস্তবায়নে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু অর্থায়নে উন্নয়ন বাজেটের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বরাদ্দ ও জলবায়ু বিপন্ন এলাকাসমূহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া লস এন্ড ড্যামেজ মোকাবেলায় জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন করে একটি পৃথক তহবিল গঠন করতে হবে।



মন্তব্য