kalerkantho


ঢাকা-২ আসন: আওয়ামী লীগ

শাহীনের হাতেই যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রীর আসন!

মনোনয়নের সংকেত পেয়ে এলাকায় গণজোয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:১০



শাহীনের হাতেই যাচ্ছে খাদ্যমন্ত্রীর আসন!

ঢাকা-২ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন ভাগ্যে তরুণ নেতা শাহীন আহমেদের মুখেই হাসি ফুটতে যাচ্ছে। নৌকার নতুন মাঝি হতে যাচ্ছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতির উত্তাল হাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের ক্ষেত্রে এমনই আভাস মিলেছে। শেষপর্যন্ত এ আভাস সত্যি হলে বর্তমান সাংসদ ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কপালই পুড়তে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই ধরনের মনোনয়ন তালিকা তৈরি করে রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দশম নির্বাচনের মতো বিএনপি যদি এবারও ভোটে না আসে, তাহলে যেনতেন রকম প্রার্থী দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সারবে মহাজোট। তবে বিএনপি ভোটে আসবে মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ তালিকাটি ধরেই সামনে এগোতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনেরা। সেক্ষেত্রে শাহীন আহমেদের ওপরই ভরসা আওয়ামী লীগের।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাহীন আহমেদকে নিয়ে বেশ তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে। মনোনয়নের চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করা ও জনগণের মাঝে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ফেরি করে বেড়াচ্ছেন শাহীন। কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে পরপর দুই দফায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে পুরো এলাকায় দলীয় কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখেন তিনি।

পাশাপাশি ঢাকা-২ আসনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে কেরানীগঞ্জের সীমা ছাড়িয়ে সাভারের আমিনবাজার ও ভাকুর্তা এবং কামরাঙ্গীর চরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চষে বেড়ান তিনি। প্রত্যেকটি এলাকায় দলের শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলেন। কার্যকর করে তোলেন দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা তৃণমূল স্তরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ইউনিটগুলো। নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং তাদের প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখেন তিনি। এর ফলে সাধারণ নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যে এক ধরণের গণজোয়ার তৈরি হয় শাহীন আহমেদকে ঘিরে।

ভোট সামনে রেখে দলের পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে প্রচারণার অংশ হিসেবে যেদিকে যাচ্ছেন সেদিকেই তৈরি হচ্ছে গণজোয়ার। দীর্ঘদিন সুন্দর রাজনীতি করে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে তাকে ঘিরে মানুষের মনে ইতিবাচক ভাবনাও জন্ম নিয়েছে। বেশকিছু এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত থাকায় ওইসব এলাকার মানুষের মাঝেও নতুন ভরসার সৃষ্টি হয়।

মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরতে গিয়ে নিজে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে কি কি উন্নয়ন করবেন এমন একটি প্রাথমিক ধারণাও দিচ্ছেন ভোটারদেরকে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বপ্রথম কামরাঙ্গীর চরের বিরাজমান গ্যাস সংকটের সমাধান। এরপর কেরানীগঞ্জ-খোলামোড়ায় ব্রিজ নির্মাণ, মুসলিমবাগ-কামালবাগ-এ ব্রিজ নির্মাণ, কুড়ারঘাটের হাসপাতাল উদ্বোধন, অসমাপ্ত বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন করা, মসজিদের ইমাম ও আলেম, স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন সাধন করা।

এতদিন কৌশলগত কারণে শাহীন আহমেদকে গোপনে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন কামরাঙ্গীরচরের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। এবার তারা প্রকাশ্যে তাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত কামরাঙ্গীর চরবাসী।

জানা যায়, ওই আসনের সাংসদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের জনপ্রিয়তা প্রায় তলানিতে পড়েছে। যার কারণে তার সমর্থকরাও এখন শাহীন আহমেদের ছাতার নিচে ভিড় জমাচ্ছে। তাছাড়া অভিযোগ আছে, কামরুল ইসলাম তার দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের তেমন একটা মূল্যায়ন না করার কারণে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, যুব সমাজের অহংকার অত্যন্ত বিচক্ষণ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ শাহীন আহমেদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী। দীর্ঘদিন লেগে থাকার পর এখন কামরাঙ্গীরচরেও শাহীন আহমেদের পাল্লা ভারী। তার সুচিন্তিত মেধা আর মননের ফলশ্রুতিতে বিভক্তি আর কোন্দল এড়িয়ে কামরাঙ্গীর চরের সৎ-সাহসী ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন এক মঞ্চে। শাহীনের সান্নিধ্য ও সঠিক দিক-নির্দেশনায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে কামরাঙ্গীর চর আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গসংগঠন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে শাহীন আহমেদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বদলে যেতে থাকে কেরাণীগঞ্জের মাঠের রাজনীতি। তৃর্ণমূলের রাজণীতিতে পালে হাওয়া ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। যে কারণে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নাশকতা চলাকালে মাঠে দাঁড়াতে পারেনি জামায়েত সমর্থিত ওই জোটের কোনো নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্দিনে হাল ধরা এই তরুণ নেতৃত্বই এখন হয়ে উঠেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি।

তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের পদকও। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ পেয়ে তরুণ এই যুবনেতা দায়িত্ব পান দল গোছানোর।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন আয়নাল জানান, এলাকাবাসীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হিসেবে হযরতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও তাদের সকল অঙ্গ সংগঠনের পক্ষথেকে শাহীন আহমেদকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায়।

তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক বলেন, ঢাকা-২ আসন থেকে এমপি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার মত সকল গুণাবলী শাহীন আহমেদের রয়েছে। একজন যোগ্য নেতা হিসেবে জনগণের সাথে রয়েছে তার যথেষ্ঠ সম্পৃক্ততা। 

শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন লিটন বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হিসেবে শাহীন আহমেদের কোনো বিকল্প নেই। শাহীন আহমেদ এলাকার মানুষের মনের কথা বোঝেন। মানুষের চাহিদার কথা বোঝেন। সেজন্য এলাকার আপামর মানুষও তাকে ভালোবাসেন। দলীয় দিক থেকেও একেবারে তৃণমূল থেকে সমন্বয় রেখেই তিনি দলকে সু-সংগঠিত রেখেছেন।

কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শাহীন আহমেদ হচ্ছেন মাটি ও মানুষের নেতা। এলাকাবাসী তাদের নেতা হিসেবে ঘুরেফিরে তাকেই সবসময় কাছে পায় তাই তার প্রতি এলাকার সাধারণ জনগণের বড় রকমের একটা আস্থা তৈরি হয়েছে।



মন্তব্য