kalerkantho


ইলিশ নাই বলে অন্য মাছের কদর ও দাম বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:৩৫



ইলিশ নাই বলে অন্য মাছের কদর ও দাম বেড়েছে

গত এক-দেড় মাসে রাজধানীর যে কোনো মাছের বাজারে গেলেই চোখে পড়েছে টুকরি ভর্তি বিভিন্ন সাইজের ইলিশ। এক পর্যায়ে ইলিশ বেশ সস্তা হয়ে যাওয়ায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল কিনতে। অনেকে তো অন্য মাছ বাজারে পাওয়া যায় সেটাই ভুলতে বসেছিল। তবে এখন বাজারে কোনো ইলিশ নেই। তাই আবার কদর বেড়েছে অন্য মাছের। আর চাহিদার কারণে বিভিন্ন প্রকার মাছের কেজিপ্রতি দামও বেড়েছে ৫০ টাকা বা তারও কিছু বেশি। 

ইলিশের প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে গত ৭ অক্টোবর থেকে সারাদেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, সংরক্ষণ ও বিক্রি পুরেপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন অন্য মাছের দিকে নজর দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আর এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। 

রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি আকারের প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে। অথচ এই আকারের রুই মাছের দাম কিছুদিন আগে ছিল ২৬০-২৮০ টাকার মধ্যে। প্রতি কেজি বড় আকারের রুই মাছ ৩৫০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি ৩০০-৩৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর ছোট আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি এখন ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে যা কিছু দিন আগেও বিক্রি হয়েছিল ১৮০ টাকা বা তারও কমে।

গতকাল বিকেলে বাড্ডার গুদারাঘাট কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা মামুনুর রশিদ পানির মধ্যে নড়তে থাকা মাঝারি আকারের রুই মাছ দেখিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাছগুলো তাজা। নিলে এক দাম ৩০০ টাকা কেজি নিতে পারবেন।’ দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন একটু চাপ আছে। ইলিশ নাই। এইগুলো মানুষ কিনছে বেশি।’

রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে কমে কেউ বিক্রি করতে রাজি হচ্ছে না। অথচ আগে এই মাছের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা নেমে এসেছিল। এই বাজারের মাছ বিক্রেতা শরিফ মিয়া বলেন, ‘না খাইয়্যা যাইবো কই। ইলিশ তো শেষ। এখন অন্য মাছের ব্যবসা শুরু হইছে।’ এই বিক্রেতা গত দেড় মাস ইলিশ ছাড়া অন্য কোনো মাছ বিক্রি করেননি বলেও জানান।

একইভাবে বিভিন্ন আকারের প্রতি কেজি টেংরা বাজারভেদে ৪৫০-৫৫০ টাকা, শরপুটি আকারভেদে ২০০-২১০ টাকা কেজি, তেলাপোয়া কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাস কেজি ১৩০-১৫০ টাকা, ছোট মলা মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা, চাষের শিং ও মাগুর মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ নিয়মিতভাবেই পাঙ্গাস মাছ ১১০-১২০ টাকা কেজি, তেলাপোয়া ১২০-১৪০ টাকা কেজি, শরপুটি সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।

কারওয়ান বাজারে মাছ কিনতে আসা আল-আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে মাছের দাম বেড়ে গেল। মনে হচ্ছে ইলিশ বন্ধ হওয়ার একটা প্রভাব পড়েছে।’  এই বাজারের মাছ বিক্রেতা খোকন বলেন, ‘২২ দিন ইলিশ মাছ বন্ধ। পুলিশ পাইলেই ধইরা লইয়্যা যাইবো। এখন অন্য মাছ বেচার সময়। আবার পারমিশন দিলে ইলিশ বেচুম।’ এখনো অনেক ক্রেতা বাজারে এসে ইলিশ আছে কিনা জিজ্ঞেস করে বলে জানান তিনি। 



মন্তব্য