kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক    

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:২৮



প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের হিলটন হোটেলে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, 'আমরা বাংলাদেশের মানুষের দিন বদলের কথা বলেছিলাম। আজকে বাংলাদেশের মানুষের দিন বদল হয়েছে।' তিনি বলেন, 'দেশে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বেতন বাড়িয়েছি। প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় বেড়েছে।' গ্রামীণ উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দেশের উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে।' এ সময় প্রবাসীদের বিভিন্ন সময়ের অবদানের কথা স্মরণ করে আগামী নির্বাচনে তাদেরকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির সঙ্গে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে মোটেও বিচলিত নন উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। বলেন, 'সব দুর্নীতিবাজ এখন এক হয়েছে।' তিনি বলেন, 'আমি সাধুবাদ জানাই, তাঁরা এক হতে পেরেছেন। জনগণ ভোট দিলে, তাঁরা ক্ষমতায় আসবেন। আর তাঁরা ক্ষমতায় এলে আবারো লুটপাট শুরু হয়ে যাবে।'

বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মা ও ছেলে দুজনই দুর্নীতি করেছেন।' তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তো আমি মামলা দেইনি। মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাঁরই আপনজন। ১০ বছর তদন্ত চলেছে। সেই মামলায় শাস্তি হয়েছে তাঁর।

নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে।' ড. মুহাম্মদ ইউনুসেরও কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'তাঁর (ড. ইউনুস) অনুরোধে পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদেরকে দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে পাকিস্তান সরকার ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা যত রিপোর্ট দিত, সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সেইসব গুরুত্বপূর্ণ দলিলের ওপর কাজ চলছে। এরই মধ্যে এক খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাকিগুলো করা হবে।' এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কেউ আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করতে পারবে না।'

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ জে মাহমুদ আলী।

জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবারই লন্ডন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দুপুরে নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে নামলে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।

বিমানবন্দরের বাইরে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতাকর্মীরা।

এদিকে, বিক্ষোভ দেখাতে বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ তাদেরকে দুই দিকে সরিয়ে দেয়।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কার্যকর সমাধানের উপায় খোঁজার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলমান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বরাবরের মতো বাংলায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।  

 



মন্তব্য