kalerkantho


সিনহার দুর্নীতি বিষয়ে দুই ব্যবসায়ীর বক্তব্য রেকর্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:৪২



সিনহার দুর্নীতি বিষয়ে দুই ব্যবসায়ীর বক্তব্য রেকর্ড

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দুর্নীতির বিষয়ে দুজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম। আর যৌক্তিক কারণেই অনুসন্ধান শেষ হতে সময় লাগছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী বলছেন, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করতে হয়। আর এ কারণেই সময় কিছুটা বেশি সময় লাগছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম আরো বলেন, ‘দুজন ব্যবসায়ীকে ডাকা হয়েছে, তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। সেই রক্তব্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি মনে করি দুদক এ ব্যাপারে খুবই স্বচ্ছ।’

এদিকে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক স্খলনসহ নানা বিষয়ে ওঠা অভিযোগগুলো অনেক আগেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিৎ ছিলো বলে মনে করেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম। তার মতে এসব বিষয়ে যত দেরি হবে জনমনে ততোই নানা প্রশ্ন উঠবে।

তিনি বলছেন, এক সময়কার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর নিষ্পত্তি করতে দেরি হলে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার মতে আরো আগেই অনুসন্ধান শেষ করা উচিৎ ছিলো।

সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই আমরা বার বার বলেছি, যেই দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে এবং এগুলো অনতিবিলম্বে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্ত কি পর্যায়ে আছে সেটা আমাদের জানা উচিত।’

নানা আলোচনা আর সমালোচনার মুখে গত বছরের ১৪ অক্টোবর চার মাসের ছুটিতে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এরপরে পাঠিয়ে দেন পদত্যাগপত্র। কিন্তু প্রধান বিচারপতির পদে থাকা অবস্থায়ই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান তার সহকর্মীরা। রাষ্ট্রপতির কাছে তার বিরুদ্ধে ১৩দফা অভিযোগও জমা দেন তারা।

সেইসব অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনৈতিক সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে আশিয়ান সিটির কাছ থেকে দু দফায় চারকোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন তিনি। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কয়েক দফায় কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় অর্থপাচারের অভিযোগও আছে। রাজউকের বরাদ্দ প্লটের সরকার নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ না করে উল্টো প্লটের আকার বাড়িয়ে নেয়া এবং বেনামে প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার কুশীলব বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতির অনুসন্ধান বন্ধে দুদককে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী ও মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা চলাকালে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।

সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন বিচারপতি তথা তৎকালীন বিচারপতি সিনহার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করলেন তারা এবং তিনি এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আশিয়ানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে কোড অব কন্ডাক্ট অনুচ্ছেদ ২৫ ও ৩৪ লঙ্ঘন করেছেন। যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীরও মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা চলাকালে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কোড অব কন্ডাক্ট অনুচ্ছেদ ১১, ১৭, ৩০ ও ৩১ লঙ্ঘন করেছেন। বিভিন্ন সময় বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করে কোড অব কন্ডাক্ট ১২ ও ২৭ ধারা লঙ্ঘন করেছেন।



মন্তব্য