kalerkantho


সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

তড়িঘড়ি করে সড়ক নিরাপত্তা বিল পাস হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৪



ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

সংসদে পাস হওয়া বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকেদর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কেউ কেউ শুধু ব্যক্তি স্বার্থ থেকে বা তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিলের ওপর মতামত দিয়েছেন। একবারও তারা চিন্তা করেননি বা তাদের মাথায় আসেনি যে পুরো দেশ, সমাজ ও মানুষের স্বার্থে এই বিলটা কত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু-যুব-বয়োবৃদ্ধদের নিরাপত্তা দিতে বিলটি পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এই আইনে সাংবাদিকের উদ্বিগ্ন হচ্ছেন কেন? এতে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়ার কিছু তো দেখি না। বিলটি পাসের আগে অনেক স্বনামধন্য সম্পাদক-সাংবাদিক মতামত দিয়েছেন। এখানে তো কণ্ঠরোধ হয়নি, কণ্ঠ আছে বলেই মতামত দিচ্ছেন। মানুষকে নিরাপত্তা দিতে, জনগণকে বাঁচাতে ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিলটি পাস করা হয়েছে তিনি দাবি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে তিনি একথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এই অধিবেশনে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন বিল নিয়ে বিরোধী দলও সমালোচনা করতে পারেনি। বরং তারা প্রশংসা করেছেন। তবে তারা তুলেছেন, এতো অল্প সময়ে বিলটি কিভাবে আনা হলো। কিন্তু মোটেও তড়িঘড়ি করে বিলটি পাস হয়নি। অনেক আগেই বিলটি পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জনগণের প্রত্যাশিত এই বিলটির মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

সংসদ নেতা বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিলো। তারা কিন্তু মেধাবি। কিন্তু তারা কখনও স্বীকৃতি পায়নি বা তারাও চায়নি। এটাই হলো বাস্তবতা। এসব শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে যেনো প্রবেশ করতে পারে, জীবনটাকে যেনো উন্নতি করতে পারে সেটা চেয়েছি। প্রায় ৯ বছর তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে বিলটি পাস করা হয়েছে। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা শুধু দেখে তাদের কণ্ঠরোধ হয়েছে কিনা। কিন্তু কণ্ঠরোধটা যে কি সেটা মার্শাল ‘ল’ যখন ছিল তখন বুঝেছে। এদেশে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ছিল, অবশ্য যারা তাদের পদলেহন করেছে তোষামদি করেছে তাদের অসুবিধা হয়নি। কিন্তু যারা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেছে তাদের অসুবিধা হয়েছে। বেশি দূর যেতে হবে না ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের আমলে কিভাবে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছে সেটা তারা ভুলে গেছেন? এখন তারা ডিজিটাল আইন করার পরেই তারা তাদের কণ্ঠরোধের কথা বললেন।

তিনি বলেন, কণ্ঠরোধ কোথায়? এই দেশে একটা টেলিভিশন ছিলো। কোন সরকার সাহস পেয়েছে এই টেলিভিশনকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে। কোনো সরকারই সাহস পাইনি। আমরা দিয়েছি। এখন মধ্য রাত পর্যন্ত টিভিতে টক ‘শো’ হয় সেখানে যা খুশি আলোচনা করতে পারছে। কেউ যেয়ে তো তাদের গলা চেঁপে ধরছে না? কেউ তো তাদের বাঁধা দেইনি। শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টাই তারা দেখছেন। বাকীদের কি হবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা হবে গঠনমূলক। সাংবাদিকতা থাকবে দায়িত্বশীল, সমাজের জন্য দেশের জন্য, মানুষের জন্য। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাতের জন্য হবে না। সাংবাদিকতা দেশের অকল্যাণের জন্য হবে না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য হবে না। এমন সাংবাদিকতা থাকতে হবে যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস আনবে, মানুষের ভেতরে সন্দেহের সৃষ্টি করবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না। মানুষের মধ্য সংঘাত সৃষ্টি করবে না। একটা সংঘাত পূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদকে উস্কে দেবে না। সেটাই তো হওয়া উচিত। সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালনার দিকেই নিয়ে যাবে। আমরা তো সেরকমই সাংবাদিকতাই চাই।

কিছু সংবাদ মাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের এতো উন্নয়ন হচ্ছে, বিশ্ববাসী দেশের উন্নয়ন দেখছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের উন্নয়নের রোলমডেল বলছে। কিন্তু দেশে কিছু পত্রিকা আছে সেটি খুললে মনে হয় বাংলাদেশ শেষ হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন-সরকার কি খারাপ কাজ করছে? কোনো উন্নয়নই তাদের চোখে পড়ে না। যারা ভালো কিছুই দেখতে পারেন না, সবই খারাপ দেখেন- এটা তাদের মানষিক অসুস্থ্যতা। আমি দেশকে ভালবাসি, দেশকে চিনি। আমার বাবা দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। ব্যক্তি স্বার্থে নয়, দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করি, দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। কারোর লেখা দিয়ে কিংবা পত্রিকা পড়ে শিখতে হবে না। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, জনগণের ওপর আস্থা-বিশ্বাস আছে। পত্রিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। আর এই ভালো না লাগার গোষ্ঠীর পত্রিকা পড়ারও কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউটিউব, ফেসবুকের ভালো দিক আছে, আবার খারাপ দিকও আছে। খারাপ বিষয়গুলো সমাজের জন্য অশুভ বিষয় বয়ে আনে। অনেক ছেলেমেয়ে এর প্রতি এডিকটেড হয়ে যায়। অপব্যবহার হয়, অপপ্রচার হয়। এতে পারিবারিক অসন্তোষ তৈরি হয়। আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটে। এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আমাদের একান্ত দরকার।

তিনি বলেন, অনেকে এর মধ্যে এত বেশি ডুবে যায় যে, মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এটা অনেক সময় সমাজের জন্য ও সংসারের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই কুপ্রভাবের ফলটা আমাদের সমাজের জন্য মোটেই ভালো নয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দিকটাও আছে। এসব মাধ্যম যদি সুস্থভাবে পরিচালিত হয় তাহলে সেটা ভালো হতে পারে। আবার উল্টো হলে সমাজ ও সংসার ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি আজ খুবই শক্তিশালী। বাজেট বাস্তবায়ন করতে আজ কারো কাছে আমাদের হাত পাততে হয় না। এই সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি পরিকল্পিতভাবে এগোনোর কারণে। বাজেটের ৯০ ভাগই আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে পারি। তাই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ একটি সমস্যা। আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সফলভাবে দমন করতে পেরেছি। এখন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। 

তিনি বলেন, আমরা দেশের গণতন্ত্রর ভীতকে শক্তিশালি করেছি, মজবুত করেছি। আবার যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে প্রতিটি গ্রামকে আমরা শহরে পরিণত করবো। প্রতিটি গ্রামে আমরা নাগরিক সেবা পৌঁছে দেব। আমরা সমগ্র দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবোই- এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।



মন্তব্য