kalerkantho


ঢামেকের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৮



ঢামেকের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশন থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক নূরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা হচ্ছেন ঢামেক জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আজিজুল হক ভুঁইয়া (পদ থেকে অব্যাহতি পেয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক দপ্তরে সংযুক্ত), সাবেক এমএলএসএস ও বর্তমানে ক্যাশিয়ার মো. আলমগীর হোসেন, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল বাতেন সরকার, ব্লাড শাখার অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাহান, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবু হানিফ ভুঁইয়া এবং জরুরি বিভাগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ও বর্তমানে ফর্ম শাখার অফিস সহকারী হারুনর রশিদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে মোট ৫৯ লাখ ১০ হাজার ৬০১ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সরকারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ২০১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য্য।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজিজুল হক ভুঁইয়া হাসপাতালের জরুরি আট লাখ ৩৮ হাজার ৬৬৮টি টিকিট ৮১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি করেছিলেন।

পরে তিনি ওই টাকার মধ্য থেকে ৬৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৩০ টাকা সরকারি খাতে জমা করলেও ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৫ টাকা জমা করেননি।

অন্যদিকে তিনি জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি করে ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ২২৭ টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ২৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৮১ টাকা। এখানেও তিনি ১৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৬ টাকা কম জমা করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আজিজুল হক অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আলামতও নষ্ট করেছেন বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এসেছে।
মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে (২০০৯ থেকে ২০১০ সাল) ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আবু হানিফ ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২৮ হাজার টিকিট বিক্রি করে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

হারুনর রশিদ ২০০৯-১০ থেকে ২০১২-১৩ সাল পর্যন্ত এক লাখ ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি করে ১১ লাখ ৫০ হাজার আত্মসাৎ করেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আলমগীর হোসেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ২৮ হাজার টিকিট বিক্রি করে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে আব্দুল বাতেন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জরুরি বিভাগে ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এক লাখ টিকিট বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়।



মন্তব্য