kalerkantho


সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সালাম মুর্শেদী

অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্টপোষকতায় গার্মেন্টস খাত রক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:১১



অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্টপোষকতায় গার্মেন্টস খাত রক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্টপোষকতার কারণে সারা বিশ্বে চরম অর্থনৈতিক মন্দা গার্মেন্টস খাতকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন খুলনা-৪ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে ওই সংসদ সদস্য বলেন, আমি ২০০৯ সালে বিজিএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণকালে সারা বিশ্বে চরম অর্থনৈতিক মন্দা চলছিলো। ইউরোপ-আমেরিকার মতো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পোশাকের চাহিদা ব্যাপক হারে কমতে শুরু করে। অন্যান্য দেশগুলোর রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও ঋণাত্মক দেখা দেয়। তখন প্রধানমন্ত্রীর সঠিক দিক নির্দেশনায় আমরা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারি। তা ছিল ৪০ শতাংশ এবং এ যাবৎকালের রেকর্ড।

তিনি আরো বলেন, তখন অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে পোশাকসহ শিল্প খাতের জন্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা, ক্ষুদ্র মাঝারি প্রণোদনা, নারী উদ্যোক্তা প্রণোদনা-স্বল্প সুদে ঋণ ও নতুন বাজার তৈরির জন্য আর্থিক প্রণোদনা অন্যতম।

সাবেক তারকা ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ২০১০ সালে গাজীপুরে গরিব অ্যান্ড গরিব নামে একটি সোয়েটার কারখানায় আগুন লেগে অনেক হতাহতের ঘটনায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি ও বিদেশি চাপ সৃষ্টি হয় এবং ভবনের নকশার বিষয়টি সামনে আসে। তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বুয়েট, কুয়েট ও চুয়েটের যেকোনো আর্কিটেক্টের মাধ্যমে ডিজাইন হলেই তার নকশা অনুমোদন করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এই ঘোষণায় ১৯৮০ থেকে ২০০৮ সালের সব পোশাক কারখানার ভবনের নকশা অনুমোদনের সুযোগ পায়। এটি ছিল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। 
তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে বিশ্বের সর্বাধুনিক ফ্যাশন ডিজাইন ও টেকনোলজির উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী পোশাক খাতে নিয়োগ পাচ্ছে। ফলে এই খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ শূন্যের কোঠায় চলে আসবে। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি বিশ্বের শীর্ষ ১০টি পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্র কারখানার ৭টিই বাংলাদেশে। এই সাতটি কারখানার প্রথমটিই আমার এনভয়ের ‘এনভয় টেক্সটাইল’। 

দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দীর্ঘ, মধ্যম ও স্বল্পমেয়াদী নীতি গ্রহণ করায় অচিরেই এর পুরোপুরি সুফল মিলবে দাবি করে সফল ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বিনিয়োগের জন্য বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নেওয়া হয়েছে। 

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুসহ দেশে কত বড়ব ড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই সেতু বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এই সেতু চালু হলে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চল হবে অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র।



মন্তব্য