kalerkantho


নৃশংসতার মামলা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৪



নৃশংসতার মামলা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে : আইনমন্ত্রী

২০১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও-পোড়াও ও নৃশংস  হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, যেসব মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, তার কিছু মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং আসামিদের শাস্তি হয়েছে। বাকী মামলাগুলোর মধ্যে কিছু মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট কোর্টে না এলে বিচার হবে না। সেই জন্য দেরি হচ্ছে। তবে যাতে দ্রুত এই মামলাগুলোর তদন্ত কাজ শেষ ও চার্জশিট দেওয়া হয় সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। 

গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নূর জাহান বেগমের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ও পরিকল্পনাকারীদের ব্যাপারে একটি পৃথক কমিশন গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। 

সরকার দলীয় সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বাল্যবিয়ে বন্ধে একটি সার্বজনীন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রচলিত বর্তমান আইনকে যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, বাল্যবিয়েমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের স্বার্থে বিবাহ নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার ও হিন্দু পুরোহিতগণকে বর্তমান প্রচলিত আইনের বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে নিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন। বর্তমান সরকার মামলা জট কমানোকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করে জট কমানোর জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক আদালত সৃজন করে বিচারক নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া বর্তমানে আরো বিচারক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

তিনি জানান, বিচার কাজে গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। সারাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এজলাস সঙ্কট নিরসনে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিচার কাজে গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। 

আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য একটি আধুনিক বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বিচার বিভাগ আধুনিকায়ন ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা একটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কার্যকর ও দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হবে।



মন্তব্য