kalerkantho


সংসদে শীর্ষ ঋণ খেলাপীদের তালিকা প্রকাশ

ফেরত আসছে না ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:৪১



ফেরত আসছে না ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণখেলাপীর সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। আর এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অনাদায়ী টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রণীত বাজেটের এক চতুর্থাংশেরও বেশি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকভিত্তিক খেলাপী ঋণের পরিমাণ ও শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপীর তালিকাও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। 

মন্ত্রী জানান, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকুলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের পরিমাণ ছিল ৩৬১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৬০ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক সাহায্যের প্রাপ্তির (ডিসবার্সমেন্ট) পরিমাণ ছিল ১৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ২ দশমিক ৪২ মার্কিন ডলার। অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, কৃষি ঋণের সুদহার ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর আগে এটি ১০ শতাংশ ছিল। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংক থেকে কৃষকদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হয়েছে। তিনি  বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অর্থাৎ এক মাসে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ৭৮৩ কোটি টাকা টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হয়েছে।  

স্বতন্ত্র সদস্য মো. আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদকে জানান, ২০১-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষমাত্রা দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা এর মধ্যে ৯১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সাত হাজার ৫৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োরগকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। পজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এক হাজার ৫৮৮ জনের সার্টিফিকেট কোর্স সমাপ্ত করেছে এবং ২৬০ জনকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ক্যাপিটাল মার্কেট (পিজিডিসিএম) কোর্স পরিচালনা করেছে। মন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা প্রথা এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তার উদ্দেশে ৯০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে। 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নিকট থেকে আবদেন পাওয়া গেলে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা পর্যালোচনা পূর্বক সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সদরে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা খোলা হবে।



মন্তব্য