kalerkantho


যুবলীগ নেতা হারুনকে ঘিরে উজ্জীবিত রায়পুরার তৃণমূল নেতাকর্মীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫৭



যুবলীগ নেতা হারুনকে ঘিরে উজ্জীবিত রায়পুরার তৃণমূল নেতাকর্মীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে তৃণমূলে জোর পেয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগসহ নানা ধরনের প্রচারণা। নরসিংদীর রায়পুরার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ত্রাতা হয়ে দেখা দিয়েছেন বাংলাদেশ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ হারুন। ইতিমধ্যে রায়পুরার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন হারুন।

রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, বর্তমান এমপি রাজিউদ্দিন রাজুর বয়সের কারণে এখন প্রায়ই অসুস্থ থাকেন এবং বিভিন্ন নেতিবাচক কারণে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীর তার উপর অনেকটা ক্ষুদ্ধ। এই আসনটিতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে মনোনয়ন দিলেই বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন। ইতিমধ্যে উপজেলার অধিকাংশ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েই মাঠে আছেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে নৌকার টিকেট পাওয়ার সবজি সংকেত পেয়েই রায়পুরার প্রতিটি ইউনিয়নে মিটিং এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ওইসব গণসংযোগ কালে শত শত নেতাকর্মীদের উৎসবমুখোর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।

বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হারুনুর রশীদ হারুন রায়পুরা উপজেলা ছাত্রলীগ থেকে এখন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা। নির্লোভ এমন সাদাসিদে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত সৎ রাজনীতিবিদ হারুনকেই এখন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এমপি হিসেবে দেখতে চায়। রায়পুরায় গেলেই হারুনের উপস্থিতির খবর পেয়ে শতশত নেতাকর্মীরা ভির করে হারুনের কাছে। 

নিলক্ষ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতার্কীরা বলেন, হারুনুর রশীদ শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝেই নয়- সাধারণ মানুষের কাছেও খুবই জনপ্রিয়। সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যেখানে অনেকেই বিভিন্ন ধান্ধাবাজিতে ব্যস্ত সেখানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েও অল্প টাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সাদামাটা জীবনযাপন করেন। এমন সৎ নেতাকেই নৌকার টিকেট দেয়া হলে বিপুল ভোটে সাধারণ মানুষ বিজয়ী করবেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুজন নেতা জানান, নরসিংদী-৫ আসনে নৌকার টিকেটে নির্বাচনের বিষয়ে যুবলীগ নেতা হারুনুর রশীদকে মাঠে কাজ করার গ্রিণ সিগন্যাল দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাকেই নৌকার টিকেট দিবেন বলে এমনই আভাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের এমন নির্দেশনা পেয়েই তিনি মাঠে জোরালো ভাবে নেমেছেন।
 
রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নিজেও একজন এমপি প্রার্থী। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখছেন। হারুনুর রশীদ প্রসঙ্গে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, কর্মী নেতা হিসেবে রায়পুরার তিনি পরিচিত। আমাকেও তৃণমূলের মানুষ পছন্দ করেন। দলের নৌকার প্রতীকে এমপি নির্বাচন আমিও করতে চাই। আমাকে দেয়া না হলে যেন যুবলীগ নেতা হারুন ভাইকেই দেয়া হয়। তিনি এমপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবো। 
বর্তমান এমপি রাজুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান এমপি বয়সের ভারে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিতে পারে না। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এক সময়ের জনপ্রিয় নেতা রাজু সাহেব। 

রায়পুরা এমপি নির্বাচন করা প্রসঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, মনোনয়ন দেয়ার মালিক আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি রায়পুরা প্রতিটি ইউনিয়ন এবং গ্রামে গ্রামে ঘুরে নেকাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাকে যোগ্য মনে করে নেত্রী মনোনয়ন দেন তাহলে নিশ্চয়ই রায়পুরাবাসী আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবেন। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের প্রাণ শক্তিই হচ্ছেন তাঁর কর্মীবাহিনী। কর্মীরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যায়, তাদের খুব বেশি চাহিদা থাকে না। সেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার পাশে আছেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে আছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার একটি আলাদা ইমেজ আছে। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আর নির্বাচিত হলে রায়পুরাবাসীর জন্য আমাকে বিলিয়ে দিব। সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকবো।



মন্তব্য