kalerkantho


কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ১১ সিটিতে ২৯৩৬ স্থান নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ১১:৩৯



কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ১১ সিটিতে ২৯৩৬ স্থান নির্ধারণ

ফাইল ফটো

নগরের পরিবেশ সুস্থ রাখার স্বার্থে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাই নিশ্চিত করতে তৎপর প্রশাসন। এ জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার ছয় দিন আগেই জবাইয়ের স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে মোট দুই হাজার ৯৩৬টি স্থান পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকায় এ বছর ২৩টি স্থানে পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯টি স্থানে কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে নগরের একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী তো আছেই। আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু বিকিকিনি শুরু হবে ঈদের তিন দিন আগে। এরই মধ্যে এসব হাটে গরু আনাও শুরু হয়ে গেছে। এখন জমে ওঠার অপেক্ষা।

সব সিটি করপোরেশনে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২৫ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি করপোরেশনগুলোতে কোরবানির পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬২০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪৩, রাজশাহী সিটিতে ২১০, চট্টগ্রাম সিটিতে ৩১৪, খুলনা সিটিতে ১৬৩, বরিশাল সিটিতে ১৩৫, সিলেট সিটিতে ৩৬, নারায়ণগঞ্জ সিটিতে ১৮৩, কুমিল্লা সিটিতে ১৯০, রংপুর সিটিতে ৯৯ ও গাজীপুর সিটিতে ৪৪৩টি স্থান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনও গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তুতি পর্যালোচনাসভায় এই তথ্য তুলে ধরেন। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ সারা দেশে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাই এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণকল্পে কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী মোশাররফ।

এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের বিষয়টি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে মোট দুই হাজার ৯৩৬টি স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশু কোরবানির জন্য এই সংখ্যা যথেষ্ট। তার পরও অনেকে তা মানতে চায় না। সে ক্ষেত্রে মেয়রদের প্রতি অনুরোধ থাকছে—আপনারা ব্যাপকভাবে প্রচার চালিয়ে সবাই উদ্বুদ্ধ করুন। তারা যেন নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করতে আসে। নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করতে আসতেই হবে। খোলা স্থানে পশু কোরবানি করাকে আমরা কোনোভাবেই উৎসাহিত করছি না।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. সাঈদ খোকন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় যথেষ্ট লোক নিয়োগ করে নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই নিশ্চিত করতে হবে। কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। নাগরিক অস্বস্তি যাতে সৃষ্টি না হয় সে জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ বাড়িতে কোরবানি করলে তো আর জোর করা যায় না। তবে সেখানে পরিবেশ অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোরবানি করে নিজেরাই পরিষ্কার করে ফেললে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

সভায় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পশু কোরবানির জন্য ১৮৩টি স্থান নির্ধারণ করেছি। দুই বছর আগে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের আহ্বান জানালে সে বছর খুব বেশি সাড়া মেলেনি। তবে গেল বছর বেশ সাড়া মিলেছে। আমরা আশা করি, এ বছর জনগণ নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করবে।’

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলমান। আমরা গত বছর সময় বেঁধে দিয়েছিলাম—এই সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার করতে হবে। তাতে সক্ষম হয়েছিলাম। এ বছরও আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এদিকে ঈদুল আজহার ছয় দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলো। এরই মধ্যে নগরীর হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমান গরু এসেছে। যদিও নিয়মানুযায়ী ঈদের তিন দিন আগে ঢাকায় কোরবানির পশু কেনাবেচায় হাট বসানোর কথা। কিন্তু আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় কেনাবেচা হবে, এমন আশা থেকেই হাটগুলোর আগাম প্রস্তুতি রয়েছে। বেশির ভাগ হাটেই শুক্র ও শনিবারের প্রস্তুতি রেখে কোরবানির পশু নিয়ে এসেছে বিক্রেতারা।

সব হাটেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যেকোনো নৈরাজ্য ও দুর্ভোগ লাঘবে মাঠে রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত আর নিজস্ব কর্মী।

জানা যায়, রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘের মাঠের হাটটি এ বছর ইজারা পেয়েছেন আবদুল লতিফ খান। হাটের মূল কেন্দ্র মৈত্রী সংঘের মাঠ হলেও আশপাশের প্রতিটি অলিগলিতে হাট বসানো হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই হাট বসানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি হাটে এরই মধ্যে অসংখ্য গরু উঠানো হয়েছে। সেগুলো বেঁধে রাখা হয়েছে মাঠের পাশের খালি জায়গাগুলোতে। যদিও মূল মাঠে এখনো পশু উঠানো হয়নি। কিন্তু পাইকাররা নিজ নিজ নামে জায়গা দখল করে রেখেছে।

গতকাল রাজধানীর ভাটারা মাদানী এভিনিউয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রাস্তার পাশে শত শত গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। পাশেই ফাঁকা মাঠে শামিয়ানা টাঙিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে শত শত গরু। অনেক গরুর ফার্মের পক্ষ থেকে বেশি স্থান নিয়ে নিজের ফার্মের নাম লিখে অর্ধশত গরু তোলা হয়েছে। এখানে গতকালই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্রেতা লক্ষ করা গেছে।

গত সোমবার ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থেকে বিক্রির জন্য আটটি দেশি গরু এনেছেন আব্দুল কুদ্দুস। সবই তাঁর নিজস্ব খামারের। এর মধ্যে বুধবার ৫০ হাজার টাকায় একটি বিক্রিও করেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে আরো গরু নিয়ে আসবেন, এমনটিই জানান এই বিক্রেতা।

মেরাদিয়া হাটেরও একই অবস্থা। সেখানেও চার দিন আগে থেকেই গরু আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা ট্রাকে করে গরু এনে বেঁধে রেখেছেন। কমলাপুরে ব্রাদার্স ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গাসহ বিশাল এলাকাজুড়ে হাটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাটের জন্য বাঁশের খুঁটি থেকে শুরু করে বড় বড় তোরণ, হাসিল কাউন্টার, লাইট স্থাপন, বিক্রেতাদের জন্য গোসলের ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে। এমনকি গতকাল বিকেলে শতাধিক গরু দেখা গেছে বিভিন্ন গলিতে।

কামরাঙ্গীর চরের ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের রাস্তা ও আশপাশের খালি জায়গায়ও এবারও হাট বসানো হয়েছে। গতকাল সেখানেও কয়েক শ গরু বিক্রির জন্য উঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিসংলগ্ম মৈত্রী সংঘের মাঠ হাটের ইজারাদার আবদুল লতিফ খান বলেন, ‘কোরবানির ঈদের তিন দিন আগে পশু উঠানোর বিধান থাকলেও আসলে তা মানা হয় না। একটি আনন্দ-উৎসবে তো সব নিয়ম মেনে চলাও যায় না। এর পরও সব ধরনের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা কাজ করছি।’ 



মন্তব্য