kalerkantho


শোকের অনুষ্ঠান পণ্ড করতে নারী নেত্রীকে আটক করলেন ওসি!

মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেফালীকে হেনেস্তার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০১৮ ২০:১৩



শোকের অনুষ্ঠান পণ্ড করতে নারী নেত্রীকে আটক করলেন ওসি!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিলেন কামরাঙ্গীর চর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন ফকির। এর অংশ হিসেবে তিনি কোনো কারণ ছাড়াই থানায় ধরে নিয়ে যান মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেফালী আক্তার শেফুকে।

শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে থানা প্রশাসন এবং স্থানীয় সাংসদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের অনুসারীরা প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের সবগুলো আয়োজন পণ্ড করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অনেকগুলো ডেকোরেটর মালিককে ফোন দিয়ে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়েছে, যেন এ আসনের নৌকা মার্কার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহীন আহমেদের কোনো অনুসারীদের মালপত্র ভাড়া না দেয়।

বিশেষ করে মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে কামরাঙ্গীর চরের নবীনগরের একটি বাসা থেকে নারী নেত্রী শেফালীকে আটক করার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আরও স্পষ্ট হয়ে গেলো বলে মনে করছেন অনেকে।

শেফালীর ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ বাসায় এসে আপাকে (শেফালী) বলে, আপনি ১৫ আগস্ট পালন করতে পারবেন না। কিন্তু আপা প্রতিবাদ করাতে তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গতকাল রাত তিনটার দিকেও একবার পুলিশ বাসায় এসে খুঁজে যান আপাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশী শাহীন আহমেদের সমর্থক শেফালী আক্তার শেফু। তার ধারাবাহিকতায় উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে আগামীকাল ১৫ আগস্ট পালনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এই নেত্রী। ১৫ আগস্ট আয়োজনের অংশ হিসেবে গরীবদের জন্য কাঙ্গারীভোজসহ নানান আয়োজ করেছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল এসব হামলা, ভাঙচুর করে লুট করে নিয়ে যায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সমর্থকরা। আর আজকে খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে ধরে নিয়ে যায় কামারাঙ্গীর চর থানা পুলিশ।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় শেফালী আক্তার শেফুর সাথে ফোনে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। শেফালী বলেন, ‘আমাকে কামারাঙ্গীর চর থানায় ধরে এনে বসিয়ে রেখেছে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে। পুলিশ বলছেন আগামীকাল যেন আমি ১৫ আগস্ট পালন না করি, আর যদি করি আমাকে থানা থেকে ছাড়া হবে না। অন্য মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখাবে। এই কথা শোনার পর আমিও পুলিশকে বলে দিয়েছি ১৫ আগস্ট পালন করার অধিকার সবারই আছে। পারলে আমাকে আটক করে রাখেন, আমি ১৫ আগষ্ট পালন করবোই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসল কথা হচ্ছে খাদ্যমন্ত্রীর লোকজন পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছে আমরা যেন শোক দিবস পালন করে না করতে পারি। তারা চায় না, শাহীন আহমেদের কোনো সমর্থক আওয়ামী লীগের কোন অনুষ্ঠান যেন আয়োজন করতে পারে। আমি এখনো থানায় বসে আছি। দেখি তারা আমাকে কি করতে পারে।’

থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম মিন্টু বলেন, শেফালী আপা কামরাঙ্গীরচর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নির্যাতিত নেত্রী, তিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় দেশরত্নের মুক্তি আন্দোলনের কারণে নির্যাতিত হয়েছিলেন। সে রকম একজন ত্যাগী নেত্রীকে পুলিশ ধরে নিয়েছে, তাও জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকী যেন উদযাপন করতে না পারেন সে জন্য। এগুলো কোনভাবেই মানা যায় না।

তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সংযোগহীনতার কারণে খাদ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। উল্টোদিকে গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন শাহীন আহমেদ। এ কারণে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে শাহীন আহমেদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে তারা। শুধুমাত্র শাহীন আহমেদের অনুসারী হওয়ার কারণে আমাদেরকে জাতীয় শোক দিবস পালনে বাধা দেওয়া হবে, এটি নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা তো বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যার অনুগত; এমনকি দলের জন্যে নিবেদিতপ্রাণ। আমাদের দোষটা কোথায়?’

মিন্টুর অভিযোগ, প্রতিটি ডেকোটারের দোকানে নির্দেশ, আমাদের যেন কিছু না দেওয়া হয়। দিলে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং মামলা দেওয়া হবে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, একটি পক্ষ নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে বলেও আমরা শুনেছি। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে শাহীন আহমেদ তথা আমাদের ঘাতে তা চাপিয়ে দেওয়া হবে বলে আমরা খুব আশংকা করছি।

কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিন হোসেন জানান, ‘শুধু যে শেফালী আপাকে না। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সমর্থক পুলিশ এবং নেতাকর্মীরা সবসময় শাহীন আহমেদ ভাইয়ের সমর্থকদের সবসময়ই নির্যাতন চালিয়ে আসছে। মামলা হামলা থেকে শুরু করে আমাদের ওপর কোনটাই বাদ রাখেনি। আমরা আওয়ামী লীগ করেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি দিনের পর দিন, যা আসলেই দুঃখজনক। দলের দুঃসময়েও আমাদের দুঃখ, সুসময়েও আমাদেও দুঃখ। আমাদের দেখার কেউ নেই।

থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রতন বলেন, শেফালী আপাকে হেনস্তা করায় তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা যারা শাহীন ভাইয়ের সমর্থক আছি তারা কি জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকীও পালন করতে পারবো না। এটা কোন ধরনের নিয়ম ? আমরা তো মন থেকে আওয়ামী লীগ করি, দলটাকে ভালোবাসি। কিন্তু খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের লোকজন আমাদেরকে যেভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে তা নিজের দলের হিসেবে কখনো মেনে নিতে পারছি না। এর একটা প্রতিকার চাই। শেফালী আপা একটি মহৎ কাজ করতে গিয়েছিল, সেখানে পুলিশ বাধা দিবে কেন। পুলিশের তো কোন অধিকার নেই শেফালী আপাকে ধরে থানায় নিয়ে হুমকি ধমকি দেয়ার।

এদিকে, কামারঙ্গীর চর থানার ওসি শাহিন ফকিরকে বারবার ফোন দিলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



মন্তব্য