kalerkantho


সাক্ষাৎকারে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সোনার তদন্তে সাপ বেরিয়ে এলে ব্যবস্থা

পার্থ সারথি দাস    

২০ জুলাই, ২০১৮ ১১:০৭



সোনার তদন্তে সাপ বেরিয়ে এলে ব্যবস্থা

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সোনা নিয়ে জনগণের সামান্যতম সন্দেহও দূর করা হবে। সে জন্য তদন্ত হবে। সন্দেহ দূর করতে আমরা কেঁচো খুঁড়তে যাব। তাতে যদি সাপ বেরিয়ে আসে তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এটাও ঠিক যে, সোনা নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন।

 বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে অনিয়ম ধরা পড়ার তথ্য সংবাদপত্রে প্রকাশের পর এ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য বের হয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সোনা জমা দেওয়ার সময় তা ৮০ শতাংশ বিশুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। দুই বছর পর তা পরীক্ষা করে ৪৬.৬৬ শতাংশ সোনা পাওয়া গেছে। ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে কালের কণ্ঠকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি এত বড় নয়। রাষ্ট্রের, জনগণের সম্পদের হেরফের হয়নি—এটা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়েও এর আগে তোলপাড় হয়। বারবার বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে কেন এমন তোলপাড় হচ্ছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী মান্নান বলেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। এটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। অর্থ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও পরিবীক্ষণ রাষ্ট্রের এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের অর্থনীতির আকারও বড়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর এবার সোনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এটা আমাদের জন্য অস্বস্তিকর।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সময়ের গভর্নর পদত্যাগ করেন। রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। সরকারি উদ্যোগে এটি তদন্ত করা হয়েছিল। ওই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি জনসমক্ষে। তবে এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে অপারগ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সোনা নিয়ে যে সংবাদপত্র প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাদের চাঞ্চল্য সৃষ্টির একটা প্রয়াস ছিল। আর বিষয়টি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এটা হতে দেব না। তিলকে তাল করা ঠিক নয়। শেষ বিচারে আমরা জনগণের কাছেই বলব, কাউকে তুষ্ট করার জন্য তদন্ত করতে যাব না।’

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা নিয়ে গত জানুয়ারি মাসে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। তাতে রক্ষিত সোনা নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে জবাবও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা জবাব দিয়েছে চলতি জুলাই মাসে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে বারবার চিঠি গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। কোনো চিঠির জবাব দিতে তিন ছয় মাস লাগে—এটা ভাবা যায়? এই জবাবটা আগে দিলে সন্দেহ তৈরির অবকাশ থাকত না। দুই পক্ষে চিঠি চালাচালিতে বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। আমার মনে হয় সন্দেহ থেকেই সোনা নিয়ে বড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। শুক্রবার তিনি দেশে ফেরার পর তাঁকে পুরো বিষয়টি অবহিত করব। বুধবার সকালে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করার পর যেসব বিষয় বুঝতে পেরেছি তার সারাংশ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে অবহিত করেছি। কারণ তিনি সোনা নিয়ে তদন্তকালে এনবিআরের চেয়ারম্যান ছিলেন।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে ত্রুটি আছে। প্রয়োজনে আমরা তদন্ত করব। বুধবারের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পাওয়া বক্তব্য পৃথকভাবে নোট নিয়েছি। দুটো সংস্থার কারো ভুল থাকলে ধরা হবে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে এলেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামান্য ফাঁক থাকলেও তা থেকে ভবিয্যতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা সময়োপযোগী কি না তা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মান্নান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তায় বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। শ্রীলংকা বা থাইল্যান্ডের মতো দেশে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া আছে, তারা কতটা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে তা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 



মন্তব্য