kalerkantho


হামলা-লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ঢাবিতে

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৮:৪৫



হামলা-লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ঢাবিতে

ছাত্রলীগের হাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক লাঞ্ছনা, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাবি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেঘমল্লার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখানে আমরা যখন খুশি যেভাবে খুশি চলতে পারি। কিন্তু গত শনিবার ক্যাম্পাসে হাঁটার সময় অর্থনীতি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর উপর হামলা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। প্রক্টরকে জানানো হলে তিনি বিচার না করে ‘রাতে কেন বের হয়েছে’ এই প্রশ্ন করেন। তার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

‘যতদিন না ক্যাম্পাসে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ হবে, ভিন্ন মত পোষণের কারণে হল থেকে বের করে দেওয়ার সংস্কৃতি দূর হবে ততদিন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা লড়াই করে যাবে’ বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো মুজিবুর রহমান মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবে উন্মুক্ত, নিরাপদ। এখানে সকলে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে। কিন্তু বর্তমানে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে গেলে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর স্বায়ত্বশাসন এখন আর নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদের দরকার আছে। কিন্তু সেটা শান্তিপূর্ণভাবে, সহিংসতার মধ্য দিয়ে নয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক। তিনি এর সাথে আছেন বলে জানান।

ইশিতা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, গতকাল (রবিবার) ছাত্রলীগের গুণ্ডারা কয়েকজন ছাত্রীর নাম উল্লেখ করে গালিগালাজ করেছিল। ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের কাছ থেকে আমরা মার খেয়েই যাচ্ছি। মানববন্ধনে আমার একটাই প্রশ্ন- আর কতদিন এভাবে মার খেয়ে যাব? এখন আর মার খাওয়া নয়, মার দেওয়ার। তাদের মার দেওয়ার মাধ্যমে আমরা ভিসি প্রক্টরকে জবাব দিতে চাই। ভিসি প্রক্টরকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা ছাত্রলীগকে শায়েস্তা করুন।

আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি মিছিল উপাচার্যের কার্যালয় বরাবর রওনা হবে। সেখানে তারা ক্যাম্পাসে হামলার বিচারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে জানান।

মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে স্লোগানের মাধ্যমে তারা ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন। মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও ডাকসু ভবন হয়ে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

রবিবার কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে আসা কয়েকজন শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করে।



মন্তব্য