kalerkantho


আধাঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক

শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আগুনের ধোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুলাই, ২০১৮ ১৮:২৪



শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আগুনের ধোয়া

হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ইমিগ্রেশন বিভাগের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কালো ধোয়ায় পুরো ভবন অন্ধকারাছন্ন হয়ে পড়লেও আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়নি। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই ধোয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এই সময়ে বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে হজ্বযাত্রীরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিলেন।   

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, আগুনের কোনো অগ্নিশিখা দেখা যায়নি। তবে প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া দেখা গেছে। আমরা ধোঁয়ার সূত্রপাত খোঁজার চেষ্টা করছি। সাতটি ইউনিট কাজ করেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, বিকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে হঠাৎ ইমিগ্রেশনের পাশে কয়েকটি কক্ষ ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগ সবাইকে টার্মিনাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা টার্মিনাল ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় হজযাত্রীসহ সিডিউল ফ্লাইটের বিপুল সংখ্যক যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার উৎসস্থল খুঁজতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের ধোয়া বের হয়েছে।

শাহজালালের ওসি ইমিগ্রেশন তাসমিন আশরাফ কালের কণ্ঠকে বলেন, পুরো বিমানবন্দর ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। সাথে সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। আধা ঘণ্টার মতো ইমিগ্রেশনের কাজকর্ম বন্ধ ছিল। এখন স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম শুরু হয়েছে। 

সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, সবকিছু এখন স্বাভাবিক। এয়ারলাইন্স চলাচল ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। ইমিগ্রেশন পর লবিতে যেখানে যাত্রীরা বসেন সেখানে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। কোথাও কোনো আগুন দেখা যায়নি। ধোঁয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারপরও বিষয়চি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

নিরাপত্তার দায়িত্বপালনকারী সংস্থা এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার রাশেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে আগুন দেখা যায়নি। ইমিগ্রেশনের পর লবিতে স্মোক দেখে অনেকে ভয় পেয়েছেন। ধারণা করছি, কোথাও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ধোঁয়া দেখা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, ফ্লাইট উঠানামা স্বাভাবিক ছিল। 

হজ্বযাত্রী আবদুর রহমান বলেন, আগুনের শিখা দেখা না গেলেও ধোয়া ছিল প্রচুর। রাত ৯টায় আমার ফ্লাইট ছিল। ইমিগ্রেশন প্রায় সস্পন্ন করার পর হঠাত্ ধোয়া দেখে ভয় পেয়ে যাই। সিলিং থেকে প্রচুর ধোয়া বের হয়েছিল। পুলিশসহ নিরাপত্তার বাহিনীরা আমাদের নিরাপদে নিয়ে যায়।  



মন্তব্য