kalerkantho


'সোজা হাঁটবি, ডানে-বাঁয়ে-পেছনে তাকালে গুলি করব'

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও খুলনা    

১৩ জুলাই, ২০১৮ ১১:১৫



'সোজা হাঁটবি, ডানে-বাঁয়ে-পেছনে তাকালে গুলি করব'

স্থপতি মাহফুজ নবীন

রাজধানী থেকে নিখোঁজ হওয়া স্থপতি মাহফুজ নবীনের খোঁজ মিলেছে খুলনায়। তাঁর স্বজনরা জানায়, কে বা কারা নবীনকে গত বুধবার শেষরাতে খুলনার আবু নাসের হাসপাতালের কাছে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দিয়ে যায়। স্বজনদের দাবি, নবীনকে ঢাকার ফার্মগেট এলাকা থেকে অপহরণকারীরা মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়।

আবাসন নির্মাতা কম্পানি শেলটেকের স্থপতি মাহফুজ নবীন গত রবিবার সকালে ঢাকার ভাসানটেক এলাকার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন অফিসে যাওয়ার কথা বলে। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল এশা গত সোমবার ভাসানটেক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

নবীনের মামা খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাশার বলেন, “গত বুধবার রাত ৩টার দিকে নবীনকে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাস থেকে খুলনার আবু নাসের হাসপাতাল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। নামিয়ে দিয়ে তাকে বলা হয়, ‘সোজা হাঁটবি, ডানে-বাঁয়ে, পেছনে তাকাবি না, তাকালে গুলি করব।’ এ কারণে সে বেশ কিছুক্ষণ সামনের দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে চোখ খুলে গোয়ালখালি জাহাজ চত্বর দেখতে পেয়ে বুঝতে পারে সে খুলনায়।”

তবে নবীন গত চার দিন কোথায় ছিলেন সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি বলে জানান বাশার।

নবীনের স্ত্রী জান্নাতুল এশা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে  বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন রবিবার বাসা থেকে বেরিয়ে নবীন কচুক্ষেত এলাকার একটি বুথ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ফার্মগেট যান। ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি

 মাইক্রোবাস থেকে একজন নেমে একটি কাগজে লেখা ঠিকানা দেখিয়ে জানতে চান তিনি চেনেন কি না। কাগজটি দেখার সময় আরো দু-তিনজন নেমে তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। দ্রুতগতিতে মাইক্রোবাস চলে যায়। তাঁকে নিয়ে একটি অন্ধকার কক্ষে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাঁকে খাবার দেওয়ার সময় অন্ধকারের মধ্যে দেওয়া হতো। তাঁর টাকা কোথায় আছে এসব বিষয় জানতে চাইত এবং তাঁকে মারধর করত। তাঁর চুল-দাড়ি কেটে ফেলেছে ওরা।

এশা আরো বলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেয়েছি এতেই খুশি। এখন খুলনায় তার বোনের বাসায় রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। সে ঢাকায় আসতে ভয় পাচ্ছে। আমাদের বলছে খুলনা যেতে। সে খুব ভয় পেয়েছে।’

নবীনের মামা বাশার বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নবীন খালিশপুর মানসি বিল্ডিংয়ে তাঁর বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু তাঁরা ঘুমিয়ে থাকায় টের পাননি। পরে পুরাতন থানা রোডে তাঁর ভগ্নিপতি ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলুর বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে অচেতন হয়ে পড়েন। তখন তাঁকে আবু নাসের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাশার বলেন, ‘নবীনের পায়ের তলা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু সেবন করানো হয়েছে। এ কারণে শারীরিকভাবে সে বেশ অসুস্থ, চিকিৎসক তাকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।’

খুলনার খালিশপুর থানার ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা নবীনের মামা আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম বাশারের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু অসুস্থ থাকায় কারা, কেন, কিভাবে তাকে অপহরণ করেছে সে বিষয়টি জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ভাসানটেক থানা পুলিশ তদন্ত করতে পারে।’

ভাসানটেক থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি তাকে খুলনায় পাওয়া গেছে। তার পরিবার থেকে বলা হচ্ছে তাকে খামারবাড়ি এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। এখন তারা যদি পুলিশের সহযোগিতা চায় পুলিশ মামলা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

নবীনের স্ত্রী এশা জানান, গত রবিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে বেরিয়েছিলেন নবীন। ওই দিন দুপুর ২টার পর নবীনকে ফোন করে তাঁর ফোনটি বন্ধ পান এশা। পরে অফিসে ফোন করে জানতে পারেন তিনি অফিসে যাননি। তাঁকে না পেয়ে তিনি পরদিন ভাসানটেক থানায় জিডি করেছিলেন। 



মন্তব্য