kalerkantho


সংসদে সাধারণ আলোচনায় মন্ত্রী-এমপিরা

ওয়ান ইলেভেনের কুশিলবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামাত পানি ঘোলা করতে চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৮ ২৩:৪২



ওয়ান ইলেভেনের কুশিলবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামাত পানি ঘোলা করতে চায়

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশিলবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত পানি ঘোলা করতে চায়। জনগণের আস্থা হারিয়ে তারা বিদেশীদের কাছে ধর্না দিচ্ছে, ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আনতে হবে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এইচ এন আশিকুর রহমান, সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সরকারি দলের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, পংকজ দেবনাথ, এম এ মালেক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ছানোয়ার হোসেন, হাবিবুর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহহাব, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, তরীকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল, ন্যাপের মিসেস আমিনা আহমেদ, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন ও বেগম নুর ই হাসনা লিলি চৌধুরী।
  
আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রমাণিক বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে ধ্বংস করতে চায়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে সব দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দ্রুত এমপিভুক্ত বৃদ্ধি এবং গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানান। 

সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশিলবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি পানি ঘোলা করতে চায়। জনগণের আস্থা হারিয়ে তারা বিদেশিদের কাছে ধর্না দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। তাই বিএনপিকে আহ্বান জানাই, নির্বাচনে আসুন, নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। হাওয়া ভবনের পরিকল্পনায় আর আপনারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারবেন না। 

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়ন, শেখ হাসিনা মানেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণ। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অগ্নিসন্ত্রাসী, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাকারী, ধ্বংসাত্মককারীদের ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রূখে দাঁড়াতে হবে। নৌকাকে পুনরায় বিজয়ী করতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত সাড়ে ৯ বছরে গণমুখী ও উচ্চাভিলাসী বাজেট দিয়ে বাংলাদেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সারাবিশ্বই বিষ্ময়ের সঙ্গে তা স্বীকার করছে। বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা বিশ্বের অনেক দেশই তা অনুসরণ করছে, পরামর্শ নিচ্ছে। জনগণ আবারো আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া কেন, অনেক উন্নত রাষ্ট্রকেও হার মানাবে। 

জাপার সেলিম উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিংখাত এবং পুঁজিবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি লুট হলেও কারোর বিরম্নদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বেকারত্ব এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি চাকরির জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়, এটি ওপেনসিক্রেট। এসব বন্ধ করার কোন দিক-নির্দেশনা নেই। 

ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মা বিএনপি-জামায়াত জোটরা দেশকে আবারো অস্থিতিশীল ও আগামী নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিদের মোকাবেলা করতে হবে। 

ন্যাপের আমিনা আহমেদ বলেন, ঋণখেলাপি সংস্কৃতি অকল্পনীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বিদেশে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপকহারে যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে বাজেটের কাঙ্খিত উদ্দেশে পূরণ হবে না। বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

স্বতন্ত্র সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, দেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি মহল নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করার চক্রান্ত চলছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।



মন্তব্য