kalerkantho


প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:২৩



চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় মন্ত্রী-এমপিরা চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা ছাড়া উপায় ছিল না। 

মাদকবিরোধী অভিযান অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে, তা না হলে আমাদের সামনের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতাও রাখতে হবে। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ সালের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারি দলের অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, মোসলেম উদ্দিন, হোসনে আরা বেগম ও উম্মে রাজিয়া কাজল। টানা পাঁচদিনের বিরতির পর সোমবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলেও পুরো অধিবেশন ঘিরেই ছিল ঈদের আমেজ। অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে এবং সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোলাকুলি করে একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের ফলেই সকল ব্যাংক যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কোন ব্যাংক বন্ধ হয়নি। দেশের সামষ্ঠিক অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী। বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। দেশের মাত্র ১ শতাংশ লোক কর দেয়। যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২ কোটি লোককে অবশ্যই করের আওতায় আনতে হবে। দেশের প্রতিটি দোকান ও সেবা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার স্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভ্যাট দিলেও তা পুরোপুরি সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে না। 

ফ্লাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর নিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়ে মন্ত্রী জানান, একটি ফ্লাট ক্রয় করতে গেলেই টাকার উৎস্য দেখাতে হয়। এতে দেশে ফ্লাট না কিনে বিদেশে অর্থ পাচার করে সেখানে অনেকেই ফ্লাট ক্রয় করছে। ফ্লাট রেজিস্ট্রেশনের হার হ্রাস করে ৭ শতাংশে নির্ধারণ এবং গৃহঋণ প্রদানের খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার একটি পৃথক তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে করে সবার জন্য গৃহ প্রদান নিশ্চিত হবে। যানজটমুক্ত করতে মন্ত্রী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ধীরে চলা যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, তিন চাকার ভেইকেল) নিষিদ্ধ এবং ফুটপাত হকারমুক্ত করে জনগণের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি এখনও যেসব সংসদ সদস্য প্লট পাননি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাইকে প্লট দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার একটি আইন করছে যাতে কোনো কৃষি জমিতে আর ফ্লাট, ঘরবাড়ি নির্মাণ করা যাবে না।

এমপিওভুক্তকরণ বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য অধিকহারে বারের লাইসেন্স প্রদান ও মদের ওপর ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে মাত্র ৯৬টি অনুমোদিত বার রয়েছে। অথচ এর বাইরে অনেক হোটেল, রেস্টুরেন্টে মদ বিক্রি হয়। কিন্তু লাইসেন্স না থাকায় তারা ট্যাক্স দেয় না। তাই যারা যারা মদ বিক্রি করছে সবাইকে লাইসেন্স প্রদান করা হোক। আর মদের ওপর যে হারে কর আরোপ করা হয়েছে তা অত্যাধিক। এতে বিদেশিরা খুশি না, ফলে বিক্রিও কম হয়। তাই হার্ড ডিংসের ওপর কর কমিয়ে আনার অনুরোধ করছি। 

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, বাজেটে তরুণদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ রাখতে হবে। কেননা বিশাল তরুণই এখন ভোটার। সারাদেশে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো সমস্যা না থাকলেও সঞ্চালন লাইনে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। আগামী ২০ বছরের মধ্যে সারা পৃথিবীতে গাড়িগুলো ইলেকট্রিকে পরিণত হবে। তাই আমাদেরও সেই বিশ্বের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর গ্যাস স্বল্পতার কারণে বিদেশ থেকে এলএমজি গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এই গ্যাস নিরবিচ্ছিন্নভাবে দিতে পারলে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অভাবনীয় প্রভাব পড়বে। আবাসিক ক্ষেত্রে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশের ৮০ ভাগ জায়গায় এলপিজি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, বিএনপি বাজেট নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশের নামে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তারা আমাদের অর্জনগুলো নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। এই বিএনপি দেশকে কি দিয়েছে? সাধারণ মানুষ মনে করে বিএনপির কোনো অর্জন ছিল না। বরং বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে আমাদের কপালে কলঙ্কের দাগ লেপে দিয়ে গেছে। বিএনপি বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা গ্রেনেড মারবো না, আমাদের গ্রেনেড হবে সাধারণ মানুষ, সাধারণ ভোটার। ভোটের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের অস্তিত্ব বিলিন করে দেবে। 

সরকারি দলের টিপু মুন্সী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা ছাড়া উপায় ছিল না। কিন্তু যে মাদকটা সব চাইতে ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হচ্ছে ইয়াবা। এটা ঢোকার পথ হচ্ছে কক্সবাজারের দুটি উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়া দিয়ে। যদি দেশে ঢোকার আগে কক্সবাজারের ওই দুটি উপজেলার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয়া যায় তাহলে মাদকের ভয়াবহতা কমে আসবে। মাদকবিরোধী অভিযান অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে, তা না হলে আমাদের সামনের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। 

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, বারংবার প্রাণনাশের চেষ্টা ও শত ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে সফল ও সার্থক নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশকে সমৃদ্ধির মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেই উন্নয়নের আলোকবর্তিকা আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বল্পন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন জাতিদ্রোহী, দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত নানা ষড়যন্ত্র করছে। 



মন্তব্য