kalerkantho


ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা কম

পার্বত্য জেলায় বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০১৮ ১৮:৪৫



ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা কম

গত কয়েক দিন সারা দেশে যেভাবে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়েছে, তাতে এবারের ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যায় কি না সে আশঙ্কার দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। ঈদের দিনও কি তাহলে আকাশের মুখ গোমড়া থাকবে? ওই দিন কি বৃষ্টি হবে? এমন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে সবার মনে। তবে আবহাওয়া অফিস থেকে খুশির খবর মিলেছে। সংস্থাটি বলেছে, ঈদুল ফিতরের দিন আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকবে। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করবে। তবে দেশের দু-এক জায়গায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হবে। তবে সেটি কম সময়ের জন্য। বড় আকারে দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই।

শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের দিন দেশের আবহওয়া কেমন থাকবে তা নিয়ে গতকাল বুধবার একাধিক আবহাওয়াবিদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেছেন, ঈদের খুশিতে বৃষ্টির বাগড়া দেওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। নিম্নচাপের কারণে গত কয়েক দিন যেভাবে বৃষ্টি হয়েছে, ধীরে ধীরে তা কমে যাবে। আজ ও আগামীকাল শুক্রবার পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি ঘটবে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকবে। বিকেলের দিকে কিছুটা মেঘমালা তৈরি হবে। তখন ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস, আবহাওয়া অফিসের সাবেক পরিচালক শাহ আলম ও আরিফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন যেহেতু বর্ষাকাল, হয়তো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে। তবে সেটি হবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। অন্য বিভাগে আকাশ পরিষ্কার থাকবে। তাঁরা বলেন, ঈদের দিন ঢাকা মোটামুটি শুষ্ক থাকবে। বিকেলের দিকে ঢাকার আকাশে কিছুটা মেঘমালা তৈরি হতে পারে।

এদিকে গত কয়েক দিন টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলায় ভূমিধসে মঙ্গলবার ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অতিবৃষ্টিতে পানি বেড়ে ফেনীর মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ভারি বর্ষণের কারণে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি সমতলে বাড়ছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

আটটি নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেগুলো হলো সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়ান, মনু, খোয়াই, ঢালাই, মুহুরী ও হালদা। ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলেও জানা গেছে।



মন্তব্য