kalerkantho


প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এমপিরা

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুন, ২০১৮ ১৭:১২



দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, লন্ডনে বসে সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান নানা ষড়যন্ত্র করছে। তার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে কোনো জাতীয় ঐক্য হতে পারে না এবং আগামীতে হবে না বলেও তারা দাবি করেন।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আজ মঙ্গলবার সংসদে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া সভাপতিত্ব করেন।  আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী, মো. ইসরাফিল আলম, মোহাম্মদ নোমান, কবি কাজী রোজী, জাসদের নাজমুল প্রধান ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

আলোচনার সূত্রপাত করে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য হবে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের সঙ্গে? স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে না। 
বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঐক্য গড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বদরুদ্দোজা নয়, এর পেছনে আরো অনেকে আছে। এরা কি ষড়যন্ত্র করছে? 

শাজাহান খান বলেন, এর সঙ্গে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা কি ছিলো আমার জানা নাই। তবে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল করেছেন। আবার একজন শিল্পপতিও বটে। তাঁর পোশাক তৈরি কারখানায় শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই ব্যক্তি এখন বিভিন্ন ছবক দিচ্ছে। তাদের ডাকে দেশবাসী সাড়া দেবে না।

নৌমন্ত্রী বলেন, কোটা সংস্কারের নামে যারা আন্দোলন করতে গিয়ে ভিসির বাসায় হামলা করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের ও তাদের উত্তরসূরিদের সরকারিতে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। এমনকি স্বাধীনতা বিরোধীদের যারা এখনো সরকারি চাকরিতে বহাল আছেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিলে ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করবে, বঙ্গবন্ধুর  আদর্শকে ধ্বংস করবে। তিনি স্বাধীনতার চেতনা বিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান।

লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠকের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে শুধু বৈঠকই করেননি, ভুরিভোজও করেছেন। ওখানে বসে উনি ষড়যন্ত্র করছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। একজন সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আইনের ব্যতয় ঘটে কি না? সেটা খতিয়ে দেখে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। 

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন, সেদিকে মনোযোগী না হয়ে বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশবাসী আগামী নির্বাচনেও এদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। 

জাতীয় পার্টির সদস্য মোহাম্মদ নোমান বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাট নিয়ে কথা বলা যাবে না। চুরি করলে চোর বলা যাবে না। এটা কোন মহারাজার দেশে বাস করছি? 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়ে গেল। কোনো হদিস নাই, জবাবদিহিতা নাই। তদন্ত কমিটি হলো, রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না। তাহলে তদন্ত কমিটি কেনো করলেন? যাদের নাম প্রকাশ করতে পারলেন না তারা কি রাষ্ট্র চালায়? তারা কি রাষ্ট্রের চাইতেও ক্ষমতাধর? 

জাসদের নাজমুল হক প্রধান দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন সবদিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই অপশক্তিরা পেছন থেকে ছুরি মেরে অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে চায়। পাকিস্তানের পেতাত্মাদের পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন কোনো দিনই পূরণ হবে না। 

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বাজেটের কিছু অংশের সমালোচনা করে বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকে রীতিমত হরিলুট হয়ে গেল। সাগরচুরির মতো হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হলো। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বাজেটে এসব ব্যাংকগুলোকে পুরস্কৃত করলেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।



মন্তব্য